মীরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: মীরসরাইয়ে মোবাইল ফোনের ফ্লাশ লাইটের আলো চোখে পড়াকে কেন্দ্র করে ১০টি জেলে পরিবারের বসতঘরে দুর্বৃত্তদের হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টায় উপজেলার হাইতকান্দি ইউনিয়নের দক্ষিন বালিয়াদি এলাকার জেলে পাড়ায়
স্থানীয় মাসুদের নেতৃত্বে ৩০-৩৫ জন দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে হামলার এই অভিযোগ ওঠেছে। ঘটনার পর থেকে শতাধিক জেলে পরিবারের নারীপুরুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে দক্ষিণ বালিয়াদি জেলে পাড়ার বাদল জলদাস জানান, আমার ছেলে জয়দেব জলদাস ঘটনার দিন রাত ৮ টায় স্থানীয় নতুন বাজার এলাকায় মোবাইলে রিচার্জ করতে যাওয়ার পথিমধ্যে স্থানীয় মাসুদের চোখে লাইটের আলো পড়াকে কেন্দ্র করে ছেলের সাথে বাক
বিতন্ডা হয়।
একপর্যায়ে মাসুদ জয়দেবকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। পরে ছেলেকে মারধরের কারণ জানতে চাওয়ায় মাসুদ আমার সাথেও হাতাহাতিতে লিপ্ত হয়। হাতাহাতির খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য জামশেদ আলম ঘটনাস্থলে আসেন। এসময় দুইপক্ষের কথা শুনে শুক্রবার সকাল ১০টায় একটি বৈঠকের সিদ্ধান্ত দেন। ইউপি সদস্য বৈঠকের সিদ্ধান্ত দিয়ে বের হওয়ার আধাঘন্টা পর রাত সাড়ে ১১টায় মাসুদের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে ৩০-৩৫ জন দুর্বৃত্ত ককটেল ফাটিয়ে আমাদের ১০টি জেলে পরিবারের বসতঘরে হামলা চালায়।
দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে জেলেপাড়ার অভয়চরণ, যুবরাজ, শংকর, ননাই, হানাই, মাখন, বিষ্ণু জলদাসের বসত ঘরের টিনের বেড়া কুপিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এসময় জেলেপাড়ার লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
এ ব্যাপারে হাইতকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় ইউপি সদস্য জামশেদ আলম জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারধরে বিষয়টি মীমাংসা করতে শুক্রবারএকটি বৈঠকের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। কিন্তু সিদ্ধান্ত না মেনে রাতেই মাসুদের নেতৃত্বে জেলে পাড়ার ১০টি বসত ঘরে হামলা চালানো হয়। যা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও দুঃখজনক।
মীরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মজিবুর রহমান পিপিএম জানান, জেলে পাড়ায় হামলার ঘটনায় ভূক্তভোগীরা শুক্রবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। এই বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সাথে জড়িতদের সনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
