গ্রাহকদের জন্য সুখবর, ফের চালু হচ্ছে ইভ্যালি!

ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ইভ্যালির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরীন এবং সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেলকে কোম্পানি পরিচালনার জন্য তাদের ৫০ শতাংশ শেয়ার পরিবারের তিন সদস্যের কাছে হস্তান্তরের অনুমতি দিয়েছেন হাইকোর্ট।

পরিবারের তিন সদস্য হলেন- শামীমা নাসরিনের বাবা রফিকুল আলম তালুকদার, মা ফরিদা তালুকদার লিলি ও বোনের স্বামী মামুনুর রশীদ।

রফিকুল, ফরিদা ও মামুনুরের কোম্পানি পরিচালনার দায়িত্ব নিতে আগ্রহ জানিয়ে করা আবেদনের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশিদ আলম সরকারের কোম্পানি বেঞ্চ।

আবেদনে, তারা এই উদ্দেশ্যে শামীমা এবং রাসেলকে তাদের কোম্পানির কিছু শেয়ার তাদের কাছে হস্তান্তর করার অনুমতি দেওয়ার জন্য হাইকোর্টের কাছে প্রার্থনা করেছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) আদেশে হাইকোর্ট বলেন, নাসরিন ও রাসেলের কাছ থেকে শেয়ার নেওয়ার পর রফিকুল, ফরিদা ও মামুনুর অন্য কারও কাছে কোনো শেয়ার হস্তান্তর করতে পারবেন না।

আদালত আরও বলেন, ইভ্যালির পরিচালনা পর্ষদ কোম্পানি পরিচালনায় রফিকুল, ফরিদা ও মামুনুরের ভূমিকা নির্ধারণ করবে।

রাসেলের আইনজীবী মোরশেদ আহমেদ খান জানান, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনের (ইভ্যালির চেয়ারম্যান) শেয়ার কেনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন রাসেলের শ্বশুর, শাশুড়ি ও পরিবারের সদস্যরা। বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক বেঞ্চে হাজির হয়ে বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) তারা মৌখিকভাবে এই ইচ্ছার কথা বলেন। আদালত তাদের পরিকল্পনা ও অভিপ্রায় হলফনামা আকারে ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দাখিল করতে বলেছেন এবং তারা মঙ্গলবার দাখিল করলে আদালত এই অনুমতি দিয়েছেন।

এই আদেশের ফলে ইভ্যালি পুনরায় চালু হওয়ার পথ সুগম হচ্ছে। ইভ্যালির গ্রাহকরা সুখবর পেতে যাচ্ছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, প্রতারণাসহ নানা অভিযোগে গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হন ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ রাসেল ও তার স্ত্রী কোম্পানির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন। তারা দুজন এখন কারাগারে। ইভ্যালিতে পণ্য অর্ডার দিয়ে অর্থ পরিশোধের পর পণ্য ও অর্থ ফেরত না দেয়ার প্রেক্ষাপটে গ্রাহকের আবেদনে হাইকোর্ট ইভ্যালির ব্যবস্থাপনায় পাচ সদস্যের নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে দেন।

আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ ইভ্যালির অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারে নানামুখী কার্যক্রম নিয়েছে।

তবে তিন মাস ধরে ইভ্যালির কেনা-বেচা এবং পণ্য সরবরাহের কাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির আয়ের কোনো সংস্থান নেই। কিন্তু ব্যয় যথারীতি রয়েছে। ইভ্যালির ওয়েবসাইট ও অ্যাপস বন্ধ রয়েছে। ফেসবুক পাতাতেও গত বছরের ১৮ অক্টোবরের পর নতুন কোনো আপডেট আসেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *