ভাত চেয়ে পোস্টার: সেই আলমগীরের চাকরির ব্যবস্থা করলো পুলিশ

‘শুধুমাত্র দু’বেলা ভাতের বিনিময়ে পড়াতে চাই’ দেওয়ালে এমন পোস্টার লাগানো বগুড়ার জহুরুল নগরের বাসিন্দা মো. আলমগীর কবিরের চাকরির ব্যবস্থা করেছে পুলিশ।

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী জানিয়েছেন, তাকে বগুড়ার স্বপ্ন আউটলেটে চাকরি দেয়া হবে। তবে কোন পদে আলমগীরের চাকরি হচ্ছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বুধবার (০২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে আলমগীর বগুড়া জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যান। সেখানে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তার সঙ্গে আলাপ করেন এসপি।

তিনি বলেন, ‘ওই পোস্টারের সত্যতা যাচাই করার জন্য তার সাক্ষাৎকার নিই। কথা বলে মনে হয়েছে, তার চাকরি আসলেই প্রয়োজন। আবার এটাও ঠিক, ওই ধরনের বিজ্ঞাপন দেয়া হীন মানসিকতার পরিচয়। সে কথা তাকে বলেছি।’

চাকরি পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় আলমগীর বলেন, ‘এই মুহূর্তে কিছু বলতে পারছি না। আগে দেখি আমার যোগ্যতা অনুযায়ী আমি কেমন পদ পাই।’

উল্লেখ্য, আর্থিক অনটনের কারণে আলমগীর কবিরের তিন বেলা ঠিকমতো খাওয়া হচ্ছিল না। এই কারণে উপায় না দেখে সম্প্রতি তিনি আশ্রয় নেন বিজ্ঞাপনের। দেয়ালে সাঁটানো বিজ্ঞাপনে তিনি জানান, ‘শুধুমাত্র দু-বেলা ভাতের বিনিময়ে পড়াতে চাই।’

দেয়ালে দেয়ালে লাগানো সেই বিজ্ঞাপনের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন এক ব্যক্তি। এর পর থেকে নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় পোস্টটি। অন্যদিকে দেশি মিডিয়া ছাড়াও তার পোস্টটি নিয়ে আন্তর্জাতিক মিডিয়াতেও নিউজ করা হয়।

উল্লেখ্য, বগুড়ার জহুরুলনগরের বাসিন্দা আলমগীর কবিরের বাবার নাম মো. কফিল উদ্দিন ও মায়ের নাম আম্বিয়া বেগম। তার বৃদ্ধ বাবা এখন অনেকটাই দুর্বল। এখন কোনো কিছু করেন না।

তারা ৫ ভাই-বোন। তিন বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। তার বড় ভাইয়ের নাম রুহুল আমিন। তিনি শারীরক ও মানসিক প্রতিবন্ধী। ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট কবির।

এর আগে আলমগীর কবির সংবাদমাধ্যমকে জানান, বগুড়া শহরের জহুরুল নগর এলাকায় ওই বিজ্ঞাপন টাঙিয়ে তিনি এখন বিব্রত। কারণ, বিজ্ঞাপনটি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে বিরূপ মন্তব্য করছেন। তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞাপনটি আমি পজিটিভলি দিয়েছি। সরকারকে ছোট করার জন্য নয়।’

৩২ বছর বয়সী আলমগীর কবির বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন। তিনি এখন বগুড়া শহরের জহুরুলগর একতলা মসজিদ এলাকার পাশের একটি বাড়িতে থাকেন। এখানে বিনামূল্যেই থাকেন তিনি।

একটি টিউশনিতে পান ১৫শ’ টাকা। এতে সবকিছু মিলিয়ে নিজের জন্য দিনে তিনবেলা খাবারের ব্যবস্থা করতে কষ্ট হচ্ছিল তার। তাই বাসার আশপাশে ভাতের বিনিময়ে পড়ানোর জন্য ওই বিজ্ঞাপন দেন।

আগের সংবাদ পড়ুন-

মুখ খুললেন সেই আলমগীর, নিজেই যাবেন পুলিশের কাছে

খাবারের বিনিময়ে পড়াতে চাওয়া সেই যুবককে খুঁজছে পুলিশ

শুধুমাত্র দু-বেলা ভাতের বিনিময়ে পড়াতে চান আলমগীর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *