রংপুরে পরীক্ষার দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ

সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর ব্যুরো- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন চলমান পরীক্ষা গ্রহণের দাবিতে রংপুর কারমাইকেল কলেজ ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগ উঠেছে।

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হন। মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

শিক্ষার্থীরা জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন অনার্সের চলমান বেশ কয়েকটি পরীক্ষা আকস্মিকভাবে করোনার কারণে স্থগিত করা হয়। এতে সাধারন শিক্ষার্থীরা চরম সংকটে পড়েছেন। এমনিতেই করোনার কারণে শিক্ষাজীবন দুই বছর পিছিয়ে গেছে। এ অবস্থায় স্থগিত করা পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রস্তুতি নিলে ছাত্রলীগের কলেজ শাখার নেতাকর্মীরা বিনা উসকানিতে স্লোগান দিয়ে এসে হামলা চালান ও কর্মসূচি পণ্ড করে দেন।

এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পাঁচ সাধারণ শিক্ষার্থী আহত হন। পরে শিক্ষকরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

সাধারন শিক্ষার্থী আবিদ হাসান বলেন, আমাদের কয়েকটা পরীক্ষা বাকি ছিল। সেগুলো নেওয়ার দাবিতে আমরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ছাত্রলীগের হামলায় তা পণ্ড হয়ে গেছে।

কলেজের আরেক শিক্ষার্থী রাব্বি বলেন, হামলায় আমাদের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই। কারণ আমরাতো সরকারবিরোধী কোনও কর্মসূচি পালন করছিলাম না। আমাদের দাবি ছিল স্থগিত পরীক্ষা যাতে দ্রুত নেওয়া হয়। এখানে ছাত্রলীগের হামলার কোনও কারণ খুঁজে পাচ্ছি না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কারমাইকেল কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি না থাকায় কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি। পরে রংপুর মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আসিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, স্থগিত পরীক্ষার তারিখ ইতোমধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা করেছে। মুলত একটি বিশেষ ছাত্র সংগঠনের অতি উৎসাহী নেতাকর্মী কলেজে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করেছিল।

কারমাইকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আমজাদ হোসেন বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের যে কোনও দাবি দাওয়া নিয়ে মানববন্ধন করতেই পারে, এতে দোষের কিছু নেই। তবে আমাকে জানালে ভালো হতো। সাধারণ শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে ছাত্রলীগ বাধা দিয়ে থাকলে তা খুবই দুঃখজনক।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যক্ষ বলেন, ছাত্রদের আমি বলেছি, যে সব কলেজে অনার্স পরীক্ষা হয়, সে সব কলেজের শিক্ষার্থীরা দাবির সমর্থনে স্মারকলিপি দিতে পারে। আমরাও স্থগিত হওয়া পরীক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করছি বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *