সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় কাঁপছে পঞ্চগড়, আবারও শৈত্যপ্রবাহ শুরু

পঞ্চগড়- ঝিরঝিরে হিমেল বাতাস, কুয়াশার দাপট আর কনকনে শীতে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে নাকাল উত্তরের জনজীবন। গত বৃহস্পতিবার ও গতকাল শুক্রবার তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ায় শৈত্যপ্রবাহ কেটে যাওয়ার আশা উঁকি দিয়েছিল।

তবে শনিবার সকাল থেকে সেই আশায় গুড়ে বালি। তাপমাত্রা আবার কমেছে। এবার ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি মৌসুমে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় রেকর্ড হওয়া সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এটি।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আজ শনিবারের মতো গত ২৪ ও ২৬ ডিসেম্বর তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। মৃদু শৈত্যপ্রবাহ কেটে গিয়ে গত বৃহস্পতিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং শুক্রবার ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। তবে আজ শনিবার তাপমাত্রা আবার কমে গেছে।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকেই পরিষ্কার হতে থাকে তেঁতুলিয়ার আকাশ। গভীর রাতে বাড়তে থাকে উত্তরের হিমেল বাতাস। এতে নামতে থাকে তাপমাত্রার পারদ।

সরেজমিনে দেখা যায়, এ জেলায় সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিক থেকে হিমেল হাওয়া বইতে শুরু করে। পাশাপাশি রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘন কুয়াশায় আচ্ছাদিত হয়ে পড়ে পুরো জেলা, যা পরদিন সকাল পর্যন্ত কনকনে শীত ও কুয়াশায় মোড়ানো থাকে। এ ছাড়া বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা সূর্যের আলো পরিলক্ষিত হলেও সূর্যের তেমন উত্তাপ থাকে না। এ মাঘের শীতে মানুষ কাজকর্ম তেমন করতে পারে না। কনকনে শীতের কারণে সময় মতো কাজে যেতে পারছে না।

এ বিষয়ে জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর এলাকার বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক দিন ধরে কনকনে শীত অনূভুত হওয়ায় আমরা কাজকর্ম করতে পারছি না। কাজ না করলে চলার উপায়ও নেই, ফলে শীতের মধ্যেও কাজ করতে হচ্ছে। আমরা গরিব মানুষ, কিন্ত কোনো সহযোগিতা পাচ্ছি না।

তেঁতুলিয়া মহানন্দা নদীতে পাথর উত্তোলনের শ্রমিক হিসেবে কাজ করা রবিউল ইসলাম বলেন, কনকনে শীতের কারণে নদীর পানি অনেক ঠান্ডা, ফলে আমরা নদীতে নামতে পারছি না, পাথরও তেমন উত্তোলন করতে পারছি না। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে দিন পার করছি।

এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ বলেন, শনিবার সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা সারাদেশের মধ্যে সর্বনিম্ন। তবে তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *