৯০ বছর বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন কুমিল্লার প্রবীণ আইনজীবী মোহাম্মদ ইসমাইল। কনের নাম মিনোয়ারা আক্তার (৩৭)। বিষয়টি এখন ‘টক অব দি কান্ট্রি’।
বিবাহিতদের সুখময় দাম্পত্য জীবন কামনা করে দোয়া ও অভিনন্দন জানাচ্ছেন আইনজীবীর সহকর্মীসহ সুহৃদজনরা। এছাড়া ইতিবাচক মন্তব্যে নবদম্পতিকে দোয়া ও শুভ কামনা জানাচ্ছেন নেটিজেনরা।
তবে বিষয়টি কোনোভাবেই মানতে পারছেন না নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তাদের বিয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে তসলিমার মন্তব্য, ‘পুরুষরাই মেয়েদের জীবন নষ্টের জন্য দায়ী। ‘
তসলিমা নাসরিনের ফেসবুকের পোস্টটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-
“বাংলাদেশের কুমিল্লায় নব্বই বছর বয়সী এক অবসরপ্রাপ্ত আইনজীবী এক তরুণীকে ঘটা করে বিয়ে করেছে। এই খবরটি মিডিয়ার অনলাইন এডিশানে দেখলাম। ভেবেছিলাম মন্তব্যের কলাম বোধহয় তিরস্কার, কটূক্তি, গালাগালির সুনামিতে ভেসে যাবে। আশ্চর্য, দেশের হাজারো সুযোগ্য সন্তান সমস্বরে আলহামদুলিল্লাহ বলছে। প্রশংসায় পঞ্চমুখ সকলে।
একটি মেয়ের জীবন নষ্ট হচ্ছে দেখেও কারো কোনও সমবেদনা নেই। আসলে মেয়ে হয়ে জন্ম নিলে জীবনের অপচয় তো অবশ্যম্ভাবী। পরনির্ভর পরাধীন জীবন তো এক রকম নষ্টই। সে কারণেই বোধহয় কেউ সেদিকে তাকায় না। আসলে যে পুরুষেরা মেয়েদের জীবন নষ্টের জন্য দায়ী, সমাজে ‘বীর পুরুষ’ হিসেবে সে পুরুষেরাই সম্মানিত। ”
উল্লেখ্য, বর কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির ৫ বারের নির্বাচিত সভাপতি। প্রবীণ আইনজীবী মোহাম্মদ ইসমাইল ১৯৪৭ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। ১৯৪৯ সালে ইন্টারমিডিয়েট ও পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগে পড়াশোনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান তাঁর সহপাঠী ও ফজলুল হক হলের রুমমেট ছিলেন।
সাত বছর আগে তার স্ত্রী মারা যান। তিনি পাঁচ ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।
আইনজীবী মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, ‘আমি সক্ষম মানুষ। এখনও কোর্টে যাই। বয়স আমার জন্য কোনো বাধা নয়। ইচ্ছাশক্তি ও সঙ্গীর জন্যই বিয়ে করি। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’
