নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ভারড়া ইউনিয়নের শাখাইল এলাকায় সড়কের দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া ও একটি সেতুর অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে অন্তত প্রায় ৫ হাজার বাসিন্দা।
শাখাইল পূর্ব-পাড়া থেকে শাখাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়ক উঁচুনিচু ও গর্তে ভরা। বৃষ্টির দিনে এই এলাকায় চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এছাড়াও একটি সেতুর অভাবে বর্ষাকালে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে স্থানীয় এলাকায় চলাচলকারী জনসাধারণ।
শাখাইল এলাকার এই সড়ক দিয়ে শাখাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক বেগ পেতে হয়। স্থানীয় শিক্ষার্থী রাসেল বলেন, আমার জন্মের পর থেকেই এই সড়ক এভাবেই পড়ে আছে। আমরা নিজেরাই টাকা দিয়ে কিছু কিছু মাটি ফালাই এই সড়কে। বর্ষাকালে নৌকা ছাড়া চলাচল করা যায় না। আমরা স্কুলে ঠিকমতো যেতে পারি না।
ভারড়া ইউনিয়ন থেকে ভায়া গয়হাটা ইউনিয়নের স্বল্প-আকুটিয়া এলাকা হয়ে সরাসরি উপজেলা সদরে কম সময়ে যাওয়া যায় বিধায় এই সড়ক জনপ্রিয়।
স্থানীয় দোকানি ক্ষোভ নিয়ে জানায়, এখানে একটি সেতু অনেক দরকার। বিভিন্ন সময়ে মাপামাপি করা হয়েছে কিন্তু এখনো কিছুই নির্মাণ হয়নি। পথচারী মুশরা মিয়া বলেন, বৃষ্টি নামলে হাটাই যায় না এই পথে। এখানে নতুন সড়ক নির্মাণ দরকার।
যাতায়াতের দুর্ভোগের কথা শিকার করে স্থানীয় ৩ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য (মেম্বার) মো: দেলোয়ার হোসেন বলেন, শাখাইল এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে শিক্ষার্থীদের অনেক অসুবিধা হয়। শাখাইল স্কুল পর্যন্ত সড়কের সংস্কার ব্যাপক প্রয়োজন এবং সড়কে প্রায় ৪০ ফুট একটি সেতু নির্মাণ জরুরি। তাহলেই কেবল এলাকার জনসাধারণের ভোগান্তি কমবে। আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি এবং এই সড়কের প্রতি আমাদের মাননীয় সাংসদ আহসানুল ইসলাম টিটু এমপি মহোদয়ের বিশেষ দৃষ্টি কামনা করছি।
শাখাইল সড়কের বেহাল অবস্থা সম্পর্কে ভারড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা রিয়াজ উদ্দীন তালুকদার মুঠোফোনে বলেন, শাখাইল প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত সড়কে মাটি ভরাটসহ সংস্কার ব্যাপক প্রয়োজন। এছাড়াও একটি সেতু নির্মাণ এই সড়কে অত্যন্ত জরুরী। আমি এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
উল্লেখ্য, গুরুত্ব বিবেচনায় ভারড়া ইউনিয়নের সাথে গয়হাটা ইউনিয়নের অন্যতম সংযোগ সাধন হয়ে থাকে শাখাইল এলাকার এই সড়ক দিয়ে। সাপ্তাহিক হাটের দিনে এই সড়কের ব্যস্ততা বেড়ে যায় দ্বিগুণ। এছাড়াও এই সড়কে একটি মাদ্রাসা ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।
