বিনোদন ডেস্ক- নিত্যদিনই কোনো না কোনো তারকার বিচ্ছেদের খবর প্রকাশ্যে আসে। কারোর সম্পর্কের মেয়াদ ২-৩ বছর, কেউ আবার দীর্ঘ ১৬-১৮ বছর সংসার করেও আলাদা হয়ে যান। নিত্য ভাঙার খবরের মাঝে নতুন করে গড়ার বার্তা দেন অভিনেতা দীপঙ্কর দে ও অভিনেত্রী দোলন রায়।
মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারি দ্বিতীয় বিবাহ বার্ষিকী পালন করে আবারো জুড়ে থাকার বার্তাই দিলেন এই জনপ্রিয় জুটি। কিন্তু বাস্তবেই কি তাঁদের একসঙ্গে থাকার বয়স মোটে দু বছর? একেবারেই নয়!
ভারতীয় আইন মেনে দাম্পত্য জীবনের বয়স সবে দু বছর হতে পারে, কিন্তু তাঁরা জানেন আসলে তাঁদের সম্পর্কের বয়স ২৭ বছর! দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে লিভ ইন সম্পর্কে ছিলেন দীপঙ্কর দোলন। বিয়ে না করেও একসঙ্গে থাকার ব্যাপারটায় যখন তরুণ তরুণীরাও ইতস্তত করত তখন সমাজের বিপরীতে গিয়ে নিজেদের ভালবাসাটাকে সবার উপরে স্থান দিয়েছিলেন দীপঙ্কর দোলন।
ইন্ডাস্ট্রিতে দুজনের সম্পর্কটা ছিল ওপেন সিক্রেট। কোনোদিনই বিষয়টা নিয়ে রাখঢাক করতে দেখা যায়নি তাঁদের। সমাজ বাঁকা চোখে দেখবে? তা দেখুক না। কোনোদিনই এসবে বিশেষ পাত্তা দেননি তাঁরা। ২০২০ সালের ১৮ জানুয়ারি অবশ্য আইনি মতে বিয়ে সেরেছিলেন দীপঙ্কর দোলন।
মঙ্গলবার ছিল সেই বিয়েরই দ্বিতীয় বর্ষপূরণ। এদিনও জুটিকে দেখা গেল রঙমিলান্তি সাজে। হলুদ তাঁতের শাড়ি, হালকা গয়না, সিঁথিতে সিঁদুর আর খোঁপায় গোলাপ গুঁজে সেজেছিলেন দোলন। অন্যদিকে হলুদ টিশার্ট ও কালো প্যান্টে দেখা মিলল অভিনেতার। চোখে সানগ্লাস পরে ঝাঁ চকচকে যুবক দীপঙ্কর দে।
একই রঙের পোশাক পরার কারণ ব্যাখ্যা করে দোলন দে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘শাড়িটি বেদান্ত মঠ থেকে উপহার পেয়েছিলাম। হঠাৎ কী মনে হলো তাই পরলাম। ওমা! দেখি টিটোদাও (দীপঙ্কর) প্রায় একই রঙের একটি গেঞ্জি বেছে নিয়েছে! হয়ে গেলো রংমিলন্তি।’
দীপঙ্কর ও দোলনের বয়সের ব্যবধান ২৬ বছর। এ নিয়ে কম কথা শুনতে হয়নি তাদের। সমাজের চোখরাঙানি তুচ্ছ করে একই ছাদের নিচে বসবাস করছেন তারা। এ বিষয়ে দোলন বলেন, ‘এখন আর আমায় কিছু বলতে হয় না! গতকালের কয়েকটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছিলাম। ভাইরাল সেই সব ছবি। প্রচুর ভালোবাসা, আশীর্বাদ, শুভেচ্ছা পেয়েছি। তারই ফাঁকে একজন বাঁকা কথা বলেছিলেন। দেখলাম, বাকিরাই মুখের উপরে জবাব দিয়ে তাকে চুপ করিয়ে দিয়েছেন।’
টলিপাড়ায় প্রেম-বিয়ে বিচ্ছেদের ঘটনা নিত্য দিনই ঘটছে। এমন ভাঙনের কালেও কী করে অটুট দীপঙ্কর-দোলনের সম্পর্ক? নাকি পুরোটাই নিছক অভ্যাস? এমন প্রশ্নের জবাবে দোলন বলেন—‘নজর দেবেন না! আমরা খুব ভালো আছি। একে অন্যকে ছাড়া বাঁচতে পারব না।’
তাদের সুখী দাম্পত্য জীবনের রহস্য জানিয়ে দোলন বলেন, ‘টিটোদা আমাকে যেমন শাসন করে তেমনি সোহাগও করে। আমিও তাই। ফলে মিলেমিশে থাকতে থাকতে এতগুলো বছর কোথা দিয়ে কেটে গেলো বুঝতেই পারিনি!’
