রাকিবুল ইসলাম রাফি, রাজবাড়ী প্রতিনিধি: রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া হাটে এখনো বিক্রি হয় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গুড়ের জিলাপি। বেশ সুনাম থাকায় নারুয়া ছাড়াও উপজেলা বিভিন্ন এলাকাসহ আশপাশের জেলা থেকেও অনেকে খেতে আসে আবার ক্রয় করে বাড়ীতে নিয়ে যায় এই জিলাপি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার নারুয়া হাটে তিন জন ময়রা এখনও ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি খাবার গুরের জিলাপি তৈরী করে বিক্রি করছে। ক্রেতারা দোকানের বেঞ্চে আবার কেও দাঁড়িয়ে গুরের জিলাপি খাচ্ছে আবার অনেকই বাড়ীতে নেবার জন্য ক্রয় করে প্যাকেটে মোড়াচ্ছে।
নারুয়া ইউনিয়নের বীলধামু গ্রামের জিলাপি বিক্রেতা হারেজ আলি মন্ডল জানান, ৩০ বছর যাবত ব্যবসা করছি। প্রতি কেজি জিলাপি ১০০ টাকা দরে বিক্রি করি। প্রতি হাটে ২৫-৩০ কেজি বিক্রি হয়। আমার ছেলে পান্নু মন্ডল আমাকে এ কাজে সহযোগিতা করে।
অপর বিক্রতা গফুর মন্ডলের ছেলে সেলিম মন্ডল বলেন, পারিবারিক ভাবে আমারা প্রায় ৫০ বছর ধরে এ ব্যাবসার সাথে জড়িত আমিও ২০ বছর যাবত গুরের জিলাপি বিক্রয় করে আসছি। আমার দোকানে প্রতি হাটে প্রায় ৪০ কেজি জিলাপি বিক্রি হয়। বালিয়াকান্দির বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও রাজবাড়ীর আশপাশের অনেক জেলা থেকে কিনতে আসে আমার এ জিলাপি।
জিলাপি তৈরী করতে তেল, ময়দা, গুড় সংগ্রহ করে বেলা ১১ টার পর থেকে জিলাপি বানানো শুরু করি আর রাত ৭-৮ টা পর্যন্ত বিক্রি চলে। প্রতি হাটে আমার চার-পাঁচ হাজার টাকা বেচাকেনা হয়। কর্মচারী ও অন্যান্য সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার টাকা থাকে।
কাস্টমার ধরে রাখার জন্য জিলাপির মান ভালো করার চেষ্টা করি। প্রতি সপ্তাহে প্রায় দেড়-দুই মণ জিলাপির অর্ডার থাকে। আমার গুড়ের জিলাপি ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করি।
ক্রেতা মো. হাসান কাদরি বলেন, আমার কাছে গুরের জিলাপি খুব প্রিয়। সবখানে এই জিলাপি পাওয়া যায়না আর নারুয়া হাটের গুরের জিলাপির অনেক সুনাম আছে তাই আমি মাঝে মাঝেই কিনতে আসি।
শিক্ষক কবির বলেন, বাঙালীরা ঐতিহ্যগত ভাবেই ভোজন রসিক। নিজে খেতে ও অন্যকে খাওয়াতে পছন্দ করে। গুরের জিলাপি একটি ঐতিহ্য বাহী খাবার। গুড়ের জিলাপি খেতে ভালোবাসেনা এমন লোক খুব কমই আছে, যদি তা গড়ম হয় তা হলেতো কথাই নেই। অনেকেই আত্নীয় সজনদের বাড়ীতে নেওয়া সহ নববর্ষ, মিলাদ মাহফিল ও পূজাতে জিলাপি মিষ্টি খাবার হিসেবে ব্যাবহার করে থাকে।
