এ্যাম্বুলেন্সে শুয়েই স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর গণসংযোগ

রাজিব আহমেদ রাসেল, স্টাফ রিপোর্টার: এ্যাম্বুলেন্সে শুয়েই নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন সাইফুল ইসলাম টেক্কা নামের স্বতন্ত্র একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার ১২নং নরিনা ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটেছে, এই ঘটনায় উপজেলা জুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

 

আসন্ন ৪র্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আগামী ২৬ ডিসেম্বর রবিবার সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের ১০টি ইউনিয়নের ভোটগ্রহন হবে। এরই মধ্যে বেশকয়েকটি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

 

তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে ২৩ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার নরিনা ইউনিয়নের স্বতন্ত্র মোটরসাইকেল প্রতিকের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম টেক্কার উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় টিক্কা সহ তার বেশকয়েকজন সমর্থক আহত হয়েছেন।

 

সাইফুল ইসলাম টেক্কার স্ত্রী সীমা পারভীন জানান, আমার স্বামী নির্বাচনী প্রচারণা করে রাত আনুমানিক ১০টায় নরিনা গ্রামস্থ আমিরের মোড়ে পৌছলে নৌকার প্রার্থী আবু শামীমের বাহিনীর ২৫/৩০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আতর্কিত হামলা চালায়।

 

এসময় আমার স্বামী সাইফুল ইসলাম টেক্কা ও ভাতিজা পারভেজকে গুরুতর আহত করে নৌকার শ্লোগান দিতে দিতে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কম্প্লেক্সে ভর্তি করে, সেখানে টেক্কার অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে চিকিৎসকদের পরামর্শে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

 

এ্যাম্বুলেন্সে গণসংযোগের বিষয়ে স্বতন্ত্র মোটরসাইকেল প্রতিকের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম টেক্কা বলেন, নরিনা ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীর পরাজয় নিশ্চিত জেনে আবু শামীমের ক্যাডার বাহিনী আমার উপর এরকম ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়েছে। তাদের হামলায় আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ৭/৮ স্থানে হাড় ভেঙে গেছে।

 

আমার অনুপস্থিতিতে যেনো নৌকার প্রার্থীর ক্যাডার বাহিনী জনমনে আতঙ্ক ছড়াতে না পারে এবং ইউনিয়ন বাসীর মানোবল বৃদ্ধির লক্ষ্যেই আমি হাসপাতালের বেড ছেড়ে মানুষের মাঝে এসেছি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন আমার শরীরের কয়েকটি স্থানে অপারেশন প্রয়োজন। নির্বাচন শেষ হলে আমি আবারও হাসপাতালে ভর্তি হবো।

 

হামলার বিষয়ে নরিনা ইউনিয়নের নৌকা প্রতিকের প্রার্থী আবু শামীম বলেন, কে কার উপর হামলা করেছে এই বিষয়ে আমি কিছু্ই জানিনা। শুক্রবার সকালে লোকমুখে শুনেছি যে সাইফুল ইসলাম টেক্কার উপর হামলা হয়েছে। বিষয়টি এমনও হতে পারে যে মানুষের সমবেদনা ও ভোটের মাঠে আলোচনায় থাকার জন্য এরকম নিজেরাই ঘটিয়েছে।

 

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিদ মাহমুদ খান বলেন, হামলার খবর জানার পর সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। মোটরসাইকেল প্রতিকের প্রার্থী টিক্কার স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অন্যান্য ইউনিয়নে আমরা যেরকম পদক্ষেপ নিয়েছি এই বিষয়েও একই ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *