‘আমাকে জোর করে হাফপ্যান্ট পরাত’, মুখ খুললেন মুনমুন

বিনোদন ডেস্ক- নব্বই দশকের শেষদিকে রুপালি পর্দায় হাজির হন চিত্রনায়িকা মুনমুন। তিনি ‘অ্যাকশন হিরোইন’ নামে জনপ্রিয়তা পান। দীর্ঘ ২২ বছরের ক্যারিয়ারে নব্বইটিরও বেশি সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছেন।

 

বাংলাদেশে তার সমসাময়িক প্রায় সকল জনপ্রিয় নায়কদের সাথে স্ক্রিন শেয়ার করছেন। তিনি ১৯৯৭ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত একটানা সিনেমায় কাজ করেছেন। তবে অশ্লীলতার জন্য তার বিপক্ষে পদক্ষেপ গ্রহণ করে তৎকালীন সরকার। এজন্য ২০০৩ সালের পর তার চলচ্চিত্রে উপস্থিতি কমে যায়।

 

সম্প্রতি অনিয়মিতভাবে ফিরেছেন পর্দায়। তবে অশ্লীল তকমা নিতে নারাজ এই নায়িকা। কারণ যখন যে জোয়ার আসে তাতে অনেক সময় অভিনয় শিল্পীদের কিছুই করার থাকে না। এমনটাই বিশ্বাস এই নায়িকার। সম্প্রতি কথা বলেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ক্যারিয়ার নিয়ে। সেখান থেকে চুম্বক অংশ পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো।

 

সিনেমা ছাড়ার কারণ হিসেবে মুনমুন বলেন, ‘ছাড়ার আগে সিনেমার সার্বিক অবস্থা খুব খারাপ হয়েছিল। আমার জন্য কাজ করাটা খুব কঠিন হয়ে ওঠছিল। অশ্লীলতা আর ফিল্মি পলিটিক্স অন্যতম দুটো কারণ। এতো হিট ছবি উপহার দেওয়ার পরও সবাই বলত, আমি অশ্লীল ছবির নায়িকা! মনটা বিষাদময় হয়ে উঠেছিল। তাই দূরে সরে যাই।’

 

এই বিষাদময় কথাগুলো আরও মন খুলে জানালেন মুনমুন। নামের পাশে এখনো অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করা হয়? এই প্রশ্নের জবাবে মুনমুন বলেন, ‘আমি অশ্লীল না। তখনকার অনেক নায়িকাদের চেয়ে আমি অনেক সহনশীল পোশাক পরেছি। স্লিপলেস আমি পরতাম নাহ, নির্মাতারা আমাকে জোর করত, আপু আপনাকে হাফপ্যান্ট পরতেই হবে। আপনার রান না দেখলে দর্শক হলে ঢুকেনা। আমি শখ করে হাফপ্যান্ট পরতাম নাহ। তখনকার সময় এমন কোন নায়িকা নাই যে হাফপ্যান্ট পরে নাই। সবাই পরেছে।

 

তিনি আরও বলেন, ‘ আমার বেশির ভাগ সময় দেখানো হয়েছে রান (উড়ু)। এখন এটা যদি বলেন আমার ছবিতে অশ্লীলতা হচ্ছে তাহলে আমার কিছু করার নাই। সিনেমা তো আর আমি বানাইনি কিংবা প্রযোজকও নই। আমি অভিনয় করেছি মাত্র। টাকা পাব, কাজ করব, চলে আসব। এইতো আমার কাজ। তখনকার সময়ে অশ্লীলতা বেশি হয়েছে মান্না ভাইয়ের ছবিতে। আমি বলছিনা মান্না ভাই অশ্লীলতা করেছেন। তার ছবিতে অশ্লীলতা ঢোকানো হয়েছে। আমার অশ্লীল ছবি নেই সেটা আমি বলছিনা। আমার ছবিতেও অশ্লীলতা আছে কিন্তু আমিতো অশ্লীলতা করিনি। ২০০৩ সালে আমি ফ্লিম ছেড়ে চলে এসেছি। এর মূল কারণ হচ্ছে অশ্লীলতা।

 

আমি শিল্পী সমিতিতে গিয়েছি তাদেরকে বলেছি, তারা বলেছে-‘তোমার বেশি খারাপ লাগলে তুমি ইন্ডাস্ট্রী ছেড়ে চলে যাও। যারা অশ্লীল ছবি করেছে তারা কি শিল্পী? তারা কেউ শিল্পী সমিতির সদস্যা না। বাহিরের মেয়ে এনে অশ্লীলতা করিয়েছে।

 

তার ক্যারিয়ারের আরও নানা দিক নিয়ে কথা বলতে বলতে তিনি জানান, ‘১৯৯৯ এ সাতটি ছবির মধ্যে আমার ‘লেডি অ্যাকশেন’ ছবি হিট। এরপর পুরো ইন্ডাস্ট্রি ঝুঁকে গেল আমার উপর। এনায়েত করিম প্রথম কাট পিস ছবি ঢোকান ছবিতে। ছবি টার নাম ঠিক মনে পড়ছেনা, মনে হয় ‘রুটি’ছিল। আপনারা খোজ নিয়ে দেখবেন। সেই ছবিতে একটা বয়স্ক মহিলা তার কাপড় খুলে দেয় এবং সেখানে অন্য একটি মেয়ের বডি জুড়ে দিয়ে একটি কাটপিস তৈরি করে।

 

এটাই চারিদিকে ছড়িয়ে গেলো যে কাটপিস দিলেই ছবি হিট হয়। তো এভাবেই ছবি গুলতে কাট পিস ঢোকানো শুরু হলো। এভাবে আমার ছবিতে ও কাটপিস ভাইরাস এসে ঢুকল। এরপর ডিরেক্টরেরা, প্রযোজকেরা বলল মুনমুনকে নাও, কাটপিস লাগাও, মুনমুন এর ছবিতে ১০ কোটি টাকা ব্যাবসা করতে চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *