নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের নাগরপুরে রবিশস্য সরিষার সঙ্গে মৌমাছি পালন করে মধু চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এতে একদিকে যেমন সরিষার ফলন বাড়ছে, অন্যদিকে বাড়তি আয়ের উৎস হচ্ছে খাঁটি মধু।
নাগরপুর,ধুবড়িয়া, মামুদনগর, দপ্তিয়র সহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌবক্স স্থাপন করে কৃত্রিম পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছে খামারিরা। ক্ষেতের পাশে ও ফাঁকা স্থানে মৌবক্স স্থাপন করে চাষীরা একদিকে যেমন মধু সংগ্রহ করে, অন্যদিকে ফুলের কৃত্রিম পরাগায়নে ফসলের উপকার হচ্ছে।
সাধারণত মধু সংগ্রহের সময় নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার নাগরপুরে মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১২ হাজার কেজি যা টাকার ৪০০ টাকা কেজি হিসেবে এ মৌসুমে পুরো উপজেলা থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকার মধু সংগ্রহ হবে।
সাতক্ষীরা থেকে আগত মৌচাষী আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা চাষাভাদ্রা এলাকায় মৌবক্স বসিয়েছি। এবার আবহাওয়া তেমন ভালো না থাকায় এবং সরিষার তেমন ফলন না হওয়ায় লাইনে মধু সংগ্রহ কম হবে।
নাগরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বিশ্বাস বলেন, আমাদের এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার কেজি মধু সংগ্রহ হয়েছে। মধু চাষ এখন অধিক লাভজনক ব্যবসা হওয়ায় দিন দিন মৌচাষ বাড়ছে। নাগরপুর উপজেলাতে আগের থেকে বর্তমানে বেশি মৌচাষীরা আসছে এবং মধু ব্যবসায়ীদের সাথে সাথে সরিষার ফলন ভালো হওয়ায় সরিষা চাষীরাও লাভবান হচ্ছে।
উল্লেখ্য, নাগরপুর উপজেলায় এবার চলতি মৌসুমে প্রায় ১০ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হচ্ছে। পুরো উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৪ হাজার মৌবক্স স্থাপন করা হয়েছে এবং প্রায় ১২ হাজার কেজি মধু সংগ্রহ হবে বলে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
