কাফনের কাপড় পরে নির্বাচনী মাঠে বিএনপি প্রার্থী

নজর২৪, বরিশাল: বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) উপ-নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী শওকত হোসেন হাওলাদার (ধানের শীষ প্রতীক) তার নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয় ভাঙচুরের প্রতিবাদে সেখানে কাফনের কাপড় পরে অবস্থান নিয়েছেন।

 

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে তিনি একাই তার নির্বাচনী কার্যালয়ে অবস্থান নেন। আগামী ২০ অক্টোবর ইউনিয়ন পরিষদের উপ-নির্বাচনের দিন পর্যন্ত তিনি এ অবস্থান কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন।

 

শওকত হোসেন হাওলাদার অভিযোগ করেন, বিএনপির নির্বাচনী অফিসে শনিবার হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে ওই রাতেই আওয়ামী লীগ প্রার্থী ফয়সাল ওয়াহিদ মুন্না তালুকদারের লোকজন নিজেরাই আওয়ামী লীগ অফিসও ভাঙচুর করে। এরপর তা বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর দোষ চাপিয়ে শতাধিক নেতাকর্মীর নামে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে গ্রেপ্তার ও হামলা আতঙ্কে তারা এখন এলাকা ছাড়া। তাই তিনি রোববার একাই নির্বাচনী কার্যালয়ে আসেন।

 

বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় বাকেরগঞ্জ পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন ডাকুয়ার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কলসকাঠী ইউপি উপ-নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর চালান। হামলায় বিএনপি-যুবদলের পাঁচজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন। আহতরা হলেন-বিএনপির প্রার্থী শওকত হোসেন হাওলাদারের ছেলে কামাল হাওলাদার (৪৪), ভাতিজা সাইফুল ইসলাম (২৮), রাজা হাওলাদার (২৫), আরিফ তালুকদার (২২) ও সোহাগ (৩২)।

 

অপরদিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ফয়সাল ওয়াহিদ মুন্না এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘শনিবার বিএনপির লোকজন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অফিস ভাঙচুর করেছে। এ সময় বিএনপি প্রার্থীর লোকজন বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবিও ভাঙচুর করেছে।’

 

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, উপ-নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের এলাকা ছাড়া এবং বিএনপি প্রার্থীর কাফনের কাপড় পড়ে অবস্থান করার ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ভোটগ্রহণের দিন র-ক্তক্ষয়ী সংঘ-র্ষের আশঙ্কা করছেন সাধারণ ভোটাররা।

 

এদিকে শনিবার রাতের সংঘর্ষের ঘটনায় রোববার সকাল থেকে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বাকেরগঞ্জ সার্কেল) সুদীপ্ত সরকার রোববার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

 

বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম বলেন, ‘শনিবার আওয়ামী লীগ অফিসে ভাঙচুরের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। নির্বাচনের মাঠ শান্ত রাখার জন্য পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন।’

 

বরিশাল জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার মোহাম্মাদ নূরুল আলম বলেন, ‘দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী তাদের নির্বাচনী অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ দিয়েছে। আমরা তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো। নির্বাচনে সকল ধরনের অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য এবং ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটপ্রয়োগ করতে পারে তার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *