বাবার শখ পূরণে হেলিকপ্টারে বউ আনলেন কৃষক রাসেল

নজর২৪, টাঙ্গাইল- কৃষক বাবার ইচ্ছাপূরণ কর‌তে হে‌লিকপ্টারে বাড়িতে বউ নি‌য়ে আসলেন ছেলে রাসেল মিয়া। তিনিও কৃষি কাজ করেন।

 

রোববার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে নববধূকে নিয়ে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পোড়াবাড়ী ইউনিয়নের বাউসাইদ গ্রামে আসেন রাসেল। এই বিয়েকে কেন্দ্র করে বরের বাড়িসহ এলাকায় উৎসবের আমেজ দেখা গেছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাউসাইদ গ্রামের কৃষক মহির উদ্দিনের একমাত্র ছেলে রাসেল মিয়ার সঙ্গে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বাটাজোর গ্রামের মুন্নু খার মেয়ে মিতু আক্তারের আড়াই মাস আগে কাবিন হয়। রোববার কনে তুলে আনার দিন ধার্য ছিল। বরযাত্রীরা দুটি প্রাইভেটকার ও বাসে চড়ে কনে বাড়ি গেলেও বর যান হেলিকপ্টারে চড়ে। প্রত্যন্ত গ্রামে হেলিকপ্টারে বর আসাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।

 

এদিকে ছেলের বিয়ের আয়োজনে কোনো কমতি রাখেননি কৃষক মহির উদ্দিন। বিয়েতে আসা সবাই তার প্রশংসা করছেন। এই বিয়ের আয়োজন সামাল দিতে বরের বাড়িতে পুলিশের এক‌টি টিম উপস্থিত ছিল।

 

মহিউদ্দিন জানান, গৃহস্থ কৃষক হলেও শখ পূরণ করা এত সহজ ছিল না। ২ ঘণ্টা ২০ মিনিটের জন্য হেলিকপ্টার ভাড়া লেগেছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এ টাকা জোগাড় করেছেন কোরবানি ঈদে গরু আর গত মৌসুমে ধান বিক্রি করে। এ ছাড়া বিয়ের আনুষঙ্গিক খরচও কম নয়।

 

৮০ বছরের বৃদ্ধ জিন্নাত আলী বলেন, হেলিকপ্টারে করে বউ আনে এটা প্রথম দেখলাম। রাসেল এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।

 

নববধূ মিতু আক্তার বলেন, আমি কখনও কল্পনাও করিনি আমার বর আমাকে হেলিকপ্টারে করে তার বাড়িতে নিয়ে যাবে। এতে আমি খুব খুশি।

 

বর রাসেল মিয়া বলেন, বাবার ইচ্ছা পূরণ করতেই হেলিকপ্টারটি ভাড়া করা হয়। টাঙ্গাইল থেকে রওনা দিয়ে ময়মনসিংহের বাটাজোর থেকে নববধূকে নিয়ে ফিরে এসেছি।

 

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মুসা দেওয়ান বলেন, হেলিকপ্টারে চড়ে এই বিয়েকে কেন্দ্র করে আমাদের গ্রামে সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বড় বড় অনুষ্ঠানেও এতো লোকজন আসে না।

 

নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মনিরুজ্জামান মুন্সি বলেন, বরপক্ষ নিরাপত্তার জন্য এক সপ্তাহ আগে থানায় আবেদন করেন। সেই প্রেক্ষিতে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *