নজর২৪ ডেস্ক- রাজধানীতে গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ পাসের দাবিতে চলা আন্দোলনে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় তুলে আনা ধানমন্ডি আইডিয়ালের শিক্ষার্থীকে কলেজ প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে আইডিয়াল কলেজ, ঢাকা কলেজ প্রশাসন, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে ওই শিক্ষার্থীকে হস্তান্তর করা হয়।
ডিএমপির রমনা জোনের এডিসি শাহেন শাহ মাহমুদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা কলেজের বিপরীতে পেট্রলপাম্পের সামনে থেকে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা মাহিকে মারধর করে ধরে নিয়ে যায়। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আন্দোলনের শেষে ধানমন্ডি আইডিয়ালের কিছু শিক্ষার্থী ঢাকা কলেজের এক শিক্ষার্থীকে মারধর করে তাঁর মোবাইল ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে সেই শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন নিয়ে যায় তারা। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে মাহিকে মারধর করে ঢাকা কলেজে ধরে নিয়ে যায় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, ঢাকা কলেজের আহত ছাত্রের চিকিৎসার সকল ব্যয় ভার, ক্ষতিগ্রস্ত মোটরসাইকেলের যাবতীয় মেরামত, নতুন একটি মোবাইল ফোন কিনে দেওয়া এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের শর্তে মাহিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ধানমন্ডি আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে যেন ঢাকা কলেজের সামনে এসে আর কোন আন্দোলন কর্মসূচি না করে তারও নিশ্চয়তা দাবি করা হয়েছে।
প্রায় ৫ ঘণ্টা আটকে রাখার পর পুলিশ, ঢাকা কলেজ ও ধানমন্ডি আইডিয়াল কলেজ কর্তৃপক্ষের বৈঠকে সমঝোতা হয়। এ সময় ধানমন্ডি আইডিয়াল কলেজ কর্তৃপক্ষ অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে।
বৈঠকে পুলিশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ধানমন্ডি থানার ওসি (অপারেশন) ডাবলু ও কলাবাগান থানার ওসি (অপারেশন) আবু জাফর। ঢাকা কলেজের পক্ষে ছিলেন ঢাকা কলেজ ছাত্রাবাস কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। আরও ছিলেন ঢাকা কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর এ টি এম মঈনুল হোসেন, ধানমন্ডি আইডিয়াল কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মজিবুর রহমান ও ঢাকা কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ড. কুদ্দুস শিকদার।
