সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর ব্যুরো: গণপরিবহনে শিক্ষার্থী হয়রানি বন্ধসহ বাস ভাড়া অর্ধেক করার দাবি জানিয়েছে জাতীয় ছাত্রসমাজের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় রংপুর নগরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এ দাবি জানান জাতীয় ছাত্রসমাজ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন।
এসময় তিনি বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। গত কয়েকদিন আগে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে নামিয়ে দেওয়া ও হয়রানি করা হয়েছে। সারাদেশের শিক্ষার্থী মহল ব্যাথিত ও ক্ষোভ প্রকাশ করে।
আল মামুন আরও বলেন, গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের বাস ভাড়া অর্ধেক করার বিষয়টি লিখিত আকারে না থাকলেও ১৯৬৪ সাল থেকে এ ধারা চলমান আছে। রাজধানী ঢাকার ২৬৪ রুটে প্রায় আট হাজার বাস যাতায়াত করে। বর্তমানে ১০-১২টি ছাড়া বাকি গণপরিবহনগুলোতে শিক্ষার্থীদের বাস ভাড়া অর্ধেক বিষয়টি বাস মালিক ও পরিবহন কর্তৃপক্ষ মানতে নারাজ। জাতীয় ছাত্রসামজ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গণপরিবহন কর্তৃপক্ষের এমন আচরণের তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছে।
তিনি আরও বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীদের পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা না থাকায় বিভিন্নভাবে শিক্ষার্থীদের বিপদের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। অনেকে টিউশনি করে পড়ালেখার ব্যয়ভার বহন করত কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ অসহায়ত্বের মধ্যে পড়েছে। এমতাবস্থায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা দেখিয়ে বাস ভাড়া বৃদ্ধি করায় শিক্ষার্থীদেরকে পড়তে হয়েছে বিপাকে।
সরকারের কাছে জাতীয় ছাত্রসমাজের পক্ষ থেকে সারাদেশে শিক্ষার্থীদের বাস ভাড়া অর্ধেক করার বিষয়টি প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করার দাবি জানান জাতীয় ছাত্রসমাজের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন। অন্যথায় সারাদেশের সকল শিক্ষার্থীকে সাথে নিয়ে দাবি আদায়ে বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ছাত্রসমাজ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি ও রংপুর জেলার আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক ও বিভাগীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বয়ক ইমতিয়াজ আজিজ ড্যানি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি সহ-সাধারণ সম্পাদক আশিকুরজ্জামান আসলাম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাদ্দাম হোসেন ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক একেএম মুসফিকুর রহমান প্রমুখ।
