মিজানুর রহমান, শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পাহাড়ি বনাঞ্চল গোপালপুর বিটের পানিহাটা এলাকায় শুক্রবার সকালে একটি বন্যহাতির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। কয়েক দিন ধরেই সীমান্তে বন্যহাতির ব্যাপক অত্যাচার শুরু হয়েছে।
পানিহাটা এলাকার মাঠের পাকা আমন ধান খেয়ে সাবাড় করে ফেলেছে হাতি। হাতির অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানায়, বেশ কয়েকদিন ধরে বন্য হাতির দল পানিহাটার পাকা আমন ফসলের মাঠ ধ্বংস করতে থাকে। প্রায় একশ’ একর পাকাধান ক্ষেত খেয়ে ও পা দিয়ে মাড়িয়ে শেষ করে দেয় হাতির দল।
বন্যহাতির অত্যাচার আর মানুষের বাধা চলতেই থাকে। গত রাত অনুমানিক তিনটায় এই হাতিটির মৃতদেহ দেখা যায় ফসলের মাঠে। কিভাবে হাতিটির মৃত্যু ঘটেছে কেউ বলতে পারে না। মৃত এই হাতিটির বয়স প্রায় তিন থেকে চার বছর বলে জানা গেছে।
নালিতাবাড়ী মধুটিলা রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল করিম জানান, সকালে হাতি মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে এসেছেন। হাতিটি অসুস্থ ছিল বলে তিনি ধারণা করছেন। তবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্মকর্তার রিপোর্ট শেষে বোঝা যাবে হাতি মৃত্যু আসল ঘটনা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ডক্টর মনিরুল খান বলেন-এই বন্যহাতিগুলো ফসলের মৌসুমে যখন ফসল ক্ষেতে আসে এবং স্থানীয়রা ফসল রক্ষা করতে চেষ্টা করে,তখন শুরু হয় হাতি মানুষের দ্ব›দ্ব। যে দ্ব›েদ্ব হাতিও মারা পড়ছে মানুষও আহত নিহত হচ্ছে। প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ধ্বংস হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে হাতির আবাসস্থল। এভাবে হাতি মারা গেলে বাংলাদেশ থেকে হাতি নির্মুল হতে বেশি সময় লাগবে না বলে তিনি ধারণা করেন।
