নজর২৪, ঢাকা- বেশির ভাগ মেয়েরই ভালো লাগে আয়নায় নিজেকে সুন্দরভাবে দেখতে। ত্বকের সৌন্দর্য, মেকআপের নানা বাহারি জিনিস, কসমেটিকস মোটামুটি প্রত্যেকেই ব্যবহার করে থাকেন। এই বিষয়ক মানসম্মত পণ্যের খোঁজ করে থাকলে আজকের লেখাটা আপনারই জন্য। সৌন্দর্যচর্চায় আগ্রহ আর উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন- এই দুয়ের মিশেলে জান্নাতুল ফেরদৌস মীম যাত্রা শুরু করেন ‘’বিউটিবাজ বাই জান্নাত” নিয়ে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএতে যখন ভাইভা হত, সবসময় তিনি বলতেন দশ বছর পরে নিজেকে এমন কোথাও দেখতে চান, যেখানে অন্তত ১০ জন লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা তিনি করতে পারেন! ২০১৭ সালে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ করার পাশাপাশি স্বনামধন্য মাস্টারমাইন্ড স্কুলের শিক্ষিকা হিসেবে যোগ দেন। চাকুরি, সংসার, পড়াশোনা সব সামলে হিমশিম খাচ্ছিলেন ২৪ বছরের জান্নাত।
এতকিছু করলেও মনের মধ্যে একটা খচখচানি কাজ করছিল তার। স্বপ্ন উদ্যোক্তা হওয়ার, মানুষকে কাজ দেওয়ার! সাহস করে ছেড়ে দিলেন ৪০ হাজার টাকা বেতনের নিরাপদ চাকরিটি। পরে মাত্র ১৫ হাজার টাকার পুঁজি নিয়ে প্রথম একটা শিপমেন্ট আনালেন। পণ্যগুলোর আশিভাগই আসতে আসতে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তার কাছে তখনও সুযোগ ছিল চাকরিতে ফিরে যাওয়ার। কিন্তু তিনি ঝুঁকি নিলেন, আবারও চেষ্টা করলেন। শেষ পর্যন্ত ২০১৯ সালের জুন মাসে তিনি প্রতিষ্ঠা করলেন “বিউটিবাজ বাই জান্নাত”।
জান্নাত বলেন, “চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর ঠাট্টা হাসি কতকিছু যে শুনতে হয়েছিল। কর্পোরেট চাকরি না করে ক্রিম বেচবে মেয়ে! কি লজ্জা!” দাঁতে দাঁত চেপে কথা শুনে গেছি, পরিশ্রম করেছি দিনভর। এখন প্রতিমাসে দুই লাখ টাকা বেতন দেই পুরো টিমের। বর্তমানে আমাদের বেশকিছু পণ্য বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে আছে অনেক কিছুই: শ্যাম্পু বার, ফেসমাস্ক, অর্গানিক উপটান ইত্যাদি।
এছাড়া আমাদের কাছে ভিয়েতনাম, ফিলিপিন, থাইল্যান্ড, জাপান, কোরিয়া, ইউকেসহ বিভিন্ন দেশের নামীদামী ব্র্যান্ডের প্রোডাক্ট পাওয়া যায়। বিভিন্ন দেশের বেশকিছু সংখ্যক ব্র্যান্ডের সাথে যৌথভাবে এক্সক্লুসিভ সেলার এবং প্রতিনিধি হিসেবে বিউটিবাজ কাজ করে যাচ্ছে।
উদ্যোক্তা হওয়ার পথটা সহজ নয়। এই পুরো পথটায় পরিবারের সাপোর্ট পেয়েছেন জান্নাত। তিনি বলেন, “আমরা মেয়েরাই পারি নিজেদের এগিয়ে নিয়ে যেতে। কিন্তু তারপরও পরিবারকে পাশে না পেলে এই সমাজে নারীর পথচলা খুবই কঠিন। আমার পড়া, চাকরি, ছোট বাচ্চা দেখাশোনা করা এইসব কিছুর মধ্যেও ব্যবসায়ের সবকিছুতে আমি সাপোর্ট পেয়েছি স্বামী গাজী হুমায়ুন কবির এর।”
তিনি ব্যবসায় গুরু মানেন শ্বশুর আবুল হাশেমকে, যিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এক্সপোর্ট বিষয়ক খাতে স্বর্ণপদক পেয়েছেন। তার দিকনির্দেশনাতেই এতদূর আসা।
এখানেই থেমে যাওয়ার ইচ্ছা নেই তার। ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে প্রসাধনী সেক্টরে কাজ করতে চান তিনি। সরকারি সহযোগিতায় দেশীয় কাঁচামাল ও প্রযুক্তির সাহায্যে যাতে দেশেই উন্নতমানের প্রসাধনী উৎপাদন করা যায় তাই তার লক্ষ্য।
এছাড়া নারীদের কর্মসংস্থানের ব্যাপারে তিনি বলেন, “আমরা ভাবছি কীভাবে অফিসের পাশাপাশি বাসায় বসেও কাজ করার ব্যবস্থা করা যায়। উদ্যোক্তাদের জন্য কিছু করার ইচ্ছা আমাদের।’’
জান্নাত স্বপ্ন দেখেন, একদিন বাংলাদেশের পণ্য যাবে দেশে দেশে। কোনো একদিন হয়তো দুবাই মলের সেফোরাতে শেল্ফে সাজানো থাকবে ক্রিম, সিরাম এবং পেছনে লেখা থাকবে “মেইড ইন বাংলাদেশ”। গ্রাহকদের সেরা সেবার নিশ্চয়তা দিয়ে এগিয়ে চলেছে বিউটিবাজ। স্থানঃ উত্তরা আরএকে টাওয়ার, শপ নং ২১৭।
