নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: নাগরপুরের ১১টি ইউনিয়নে বইছে নির্বাচনী হাওয়া পাড়া-মহল্লায় নির্বাচনী উঠান বৈঠকে মুখোরিত প্রতিটি এলাকা, বাড়ি বাড়ি গিয়ে দোয়া ও ভোট চাইছেন প্রার্থীরা।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলায় ১১টি ইউনিয়নের সকল প্রার্থীরা প্রতীক পেয়েই ভোটের লড়াইয়ে মাঠে নেমেছে। ফলে নাগরপুর শহর থেকে তৃণমূল সর্বত্রই বইছে নির্বাচনী হাওয়া।
মূল সড়ক সহ গ্রামের ছোট-বড় সকল পথে শুরু হয়েছে নৌকা-ঘোড়া-আনারস সহ অন্যান্য মার্কার মুখোরিত স্লোগান সহ পথসভা। চায়ের দোকান থেকে পারিবারিক আড্ডায় সর্বত্র আলোচনায় ইউপি নির্বাচন। শুক্রবার (১২ নভেম্বর) সকাল থেকে ১১টি ইউনিয়ন এলাকার বিভিন্ন পদে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রতীক পাওয়ার পরপরই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার প্রার্থীরা তাদের সমর্থকদের নিয়ে মিছিল ও জনসংযোগে নেমেছে। এর আগে রাজনৈতিক দল মনোনীত প্রার্থীদের প্রতীক জানা থাকায় আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন নেতাকর্মীরা।
ফলে তারা দ্রুত দলীয় প্রতীকের ব্যানার, ফেস্টুন, হ্যান্ডবিল নিয়ে প্রচার শুরু করেন। দলীয় প্রার্থীদের পাশাপাশি স্বতন্ত্র এবং বিদ্রোহীরাও প্রচারে নেমেছেন। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া পুরো উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশেই শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রচার। নাগরপুর ইউপিতে মনোনয়নপত্র দাখিলেও এবার অন্যান্য বারের রেকর্ড ছাড়িয়েছে।
উপজেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মোট ৬১ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী সরকারি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। এছাড়াও ইউপি সদস্য (মেম্বার) পদে ৪৮৩ জন ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১৪৩ জন সহ সর্বমোট ৬৮৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহার শেষে চূড়ান্ত ভাবে ১১টি ইউনিয়নে মোট ৫৮ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী, সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১৩৭ জন, সদস্য (মেম্বার) পদে ৪৬৬ জন সহ সর্বমোট ৬৬১ জনকে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
তাদের অনুকূলে নৌকা, হাতপাখা, ঘোড়া, গামছা ও আনারস সহ সর্বমোট ২০ টির অধিক প্রতীক বরাদ্দ দেন নাগরপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মো: আরশেদ আলী।
ভোটের প্রচারে সবাইকে নৌকার পক্ষে মাঠে নামার আহবান জানিয়ে নাগরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোঃ জাকিরুল ইসলাম উইলিয়াম বলেন, নাগরপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হচ্ছে।
আমাদের দলের সকল প্রার্থীরা অত্যন্ত সুন্দর ও শৃঙ্খল পরিবেশে নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। ২৮ তারিখ সারাদিন নাগরপুরের জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের সভানেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মার্কাকে বিজয় করবে। ১৫ দিনের প্রচার শেষ হবে ২৬ নভেম্বর মধ্যরাত ১২ টায়। ২৮ নভেম্বর ভোট।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মোঃ আরশেদ আলী বলেন, সব দল ও প্রার্থীর ক্ষেত্রে একই আচরণবিধি পালন করা হবে। যারা আচরণবিধি ভঙ্গ করবেন তাদের জন্য আইন অনুযায়ী জরিমানা ও জেলের ব্যবস্থা রয়েছে। আচরণবিধি ভঙ্গের শাস্তি হবে অপরাধের ধরনের ওপর।
নাগরপুর উপজেলায় ১১ টি ইউনিয়নে উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে নাগরপুর সদর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে লড়বেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মোঃ কুদরত আলী এবং আনারস প্রতীকে স্বতন্ত্র লড়বেন রফিজ উদ্দিন; মামুদনগর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে লড়বেন মোঃ জজ কামাল এবং আনারস প্রতীকে স্বতন্ত্র লড়বেন মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন; গয়হাটা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে লড়বেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সামছুল হক এবং ঘোড়া প্রতীকে স্বতন্ত্র লড়বেন মোস্তাফিজুর রহমান আসকর।
সলিমাবাদ ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে লড়বেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শাহীদুল ইসলাম (অপু) এবং লাঙ্গল প্রতীকে স্বতন্ত্র লড়বেন মোঃ এমদাদ হোসেন; সহবতপুর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে লড়বেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি মোঃ আনিসুর রহমান এবং ঘোড়া প্রতীকে স্বতন্ত্র লড়বেন মোঃ তোফায়েল মোল্লা; ধুবড়িয়া ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে লড়বেন মোঃ মতিয়ার রহমান এবং আনরস প্রতীকে স্বতন্ত্র লড়বেন মোঃ শফিকুর রহমান খান।
ভাদ্রা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে লড়বেন মোঃ হামিদুর রহমান এবং মোটর সাইকেল প্রতীকে স্বতন্ত্র লড়বেন মোঃ হাবিবুর রহমান খান; দপ্তিয়র ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে লড়বেন মোঃ আবুল হাশেম এবং আনারস প্রতীকে স্বতন্ত্র লড়বেন এম ফিরোজ সিদ্দিকী; বেকড়া আটগ্রাম ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে লড়বেন মোঃ শওকত হোসেন এবং ঘোড়া প্রতীকে স্বতন্ত্র লড়বেন খান মোঃ আসাদুজ্জামান কিছলু; পাকুটিয়া ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে লড়বেন মোহাম্মদ শামীম খান এবং ঘোড়া প্রতীকে স্বতন্ত্র লড়বেন মোঃ নজরুল ইসলাম; মোকনা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে লড়বেন মোঃ শরিফুল ইসলাম এবং ঘোড়া প্রতীকে স্বতন্ত্র লড়বেন খন্দকার সাজ্জাদ হোসেন।
