মীরসরাইয়ে ১৭১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই শহীদ মিনার

মীরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: শহীদ মিনার শুধু ভাষা সংগ্রামের স্মারকই নয়; সব অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার, শোষণ, দুঃশাসন অবসানের জন্য সংগ্রামের প্রতীক।

 

দেশের আগামী প্রজন্মের মধ্যে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের সঙ্গে সঙ্গে দেশাত্মবোধ, ইতিহাস-ঐতিহ্য চেতনা জাগ্রত করার প্রয়োজনে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকা বাঞ্ছনীয় হলেও ভাষা আন্দোলনের ৬৯ বছরেও মীরসরাইয়ে ১৯১ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে শহীদ মিনার আছে মাত্র ২০টি বিদ্যালয়ে।

 

১৭১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই শহীদ মিনার। সরকারিভাবে প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসগুলো পালন করার নির্দেশনা রয়েছে। আর এসব দিবসে শহীদদের স্মরণে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার কথা থাকলেও অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকায় করা হয়না। কিছু কিছু বিদ্যালয়ে অস্থায়ী বেদি নির্মাণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় মীরসরাইয়ের জোরারগঞ্জে ১৯১৯ সালে স্থাপিত শতবর্ষী গোপীনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই কোনো শহীদ মিনার।

 

এ ব্যাপারে গোপীনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহেদা আক্তার বলেন, সরকারিভাবে অনুদান না থাকায় শহীদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া এই শতবর্ষী বিদ্যালয়ের পুরোনো ভবনে চলছে শ্রেণি কার্যক্রম। ব্যাক্তি উদ্যোগে অনেকে শহীদ মিনার নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি।

 

এ সম্পর্কে শিক্ষক নেতা ও সংগঠক সুভাষ সরকার বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছরেও অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই, এটি আমাদের জন্য লজ্জাজনক।

 

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদনের শর্তের মধ্যে শহীদ মিনার নির্মাণ বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। ভাবতে অবাক লাগে, যে জাতি ভাষার জন্য রক্ত দেয়, সেই জাতির দেশে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই।’

 

শহীদ মিনারের গুরুত্ব তুলে ধরে মীরসরাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মনজুর কাদের চৌধুরী বলেন, ‘বাঙালি চেতনা ও আমাদের জাতিসত্তার প্রথম উন্মেষ ঘটে ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে। ভাষা শহীদদের প্রতি যথার্থ মর্যাদা দিতে হলে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে শহীদ মিনার নির্মাণ জরুরি। ’

 

এ ব্যাপারে মীরসরাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম রহমান চৌধুরী বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের কোনো বরাদ্দ নেই। তবে একটি নির্দেশনা এসেছে সব বিদ্যালয়ে একই আকার ও আয়তনের শহীদ মিনার নির্মাণ করতে হবে। যারা নিজস্ব উদ্যোগে শহীদ মিনার নির্মাণ করবে, তাদের জন্যই এই নির্দেশনা।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *