নজর২৪ ডেস্ক: তেলের দাম বৃদ্ধির পর সারাদেশে যাত্রীবাহী বাস চলাচলে চলছে অনির্দিষ্টকালের ঘর্মঘট। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এরই মধ্যে বরিশালে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও বিভিন্ন রুটে ১০ থেকে ১০০ টাকা ভাড়া বেড়েছে বলে অভিযোগ এসেছে যাত্রীদের কাছ থেকে।
তবে লঞ্চ মালিকরা বলছেন তারা সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম ভাড়া নিতেন। এখন ডিজেলের দাম বাড়ায় সরকার নির্ধারিত ভাড়াই নিচ্ছেন তারা।
সরকার বুধবার মধ্যরাত থেকে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর পর বৃহস্পতিবার বিকালে ধর্মঘটে যাওয়ার ঘোষণা দেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। এতে বিপাকে পড়েন যাত্রীরা। এ সুযোগে অন্য বিভিন্ন পরিবহনে ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।
শুক্রবার সকালে এমভি কীর্তনখোলা লঞ্চে ঢাকা থেকে বরিশাল আসেন ব্যাংক কর্মকর্তা রফিকুল বাঢ়ী। তিনি বলেন, “ডেকের ভাড়া ১৫০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ২৫০ টাকা করা হয়েছে। তবে কেবিনের ভাড়া আগের মতই আছে।”
শুক্রবার ভোর ৫টা থেকে বরিশালের অভ্যন্তরীণ রুটের লঞ্চগুলো চলাচল করছে। ভোলা, ইলিশা, মজুচৌধুরীর হাট, লক্ষ্মীপুর, মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা, মুলাদীর উদ্দেশ্যে বরিশাল নৌবন্দর ছেড়ে গেছে বিভিন্ন লঞ্চ। রাতে ছাড়বে ঢাকা-বরিশাল রুটের বিলাস বহুল লঞ্চ।
তবে লঞ্চে ভোলা থেকে সকালে বরিশাল ঘাটে আসা একজন যাত্রী নিজেকে ইজাজ বৈরাগী নামে পরিচয় দিয়ে বলেন, “বৃহস্পতিবার লঞ্চের ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ৮০ টাকার ভাড়া গুনতে হয়েছে ১২০টা।” ভাড়া বাড়ানোর কারণ বললেন বরিশাল-ইলিশা-লক্ষ্মীপুর নৌপথে চলাচলকারী এমভি সম্পার সুপারভাইজার মো. রনি।
তিনি বলেন, “এক ব্যারেল তেলে তিন হাজার টাকা দাম বেড়েছে। তাই যাত্রী ভাড়া বাড়াতেই হবে। ভাড়া না বাড়লে কোম্পানির লোকসান হবে। লোকসান দিয়ে কোনো কোম্পানিই ব্যবসা করবে না।”
তবে বরিশাল লঞ্চ মালিক সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, “কোনো রুটেই ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়নি। সরকার নির্ধারিত ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে। পূর্বে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে কম নেওয়া হত। এখন ডিজিলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় লোকসান কমিয়ে আনতে সরকার নির্ধারিত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “ঢাকা-বরিশাল নৌপথে ডেকের ভাড়া ছিল ২৫৫টাকা। ২০১৩ সালে সরকার এই ভাড়া নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু এত দিন যাত্রীদের কাছ থেকে ১৫০ টাকা নেওয়া হত। প্রতিবার আসা-যাওয়ায় ৩৫ থেকে ৪০ ব্যারেল তেলে লাগে। তাই লোকসান এড়াতে শুক্রবার থেকে ২৫০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি করে ডেকের ভাড়া ৪০০ টাকা নির্ধারণের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।”
সরকার দাবি না মানলে তারাও ধর্মঘটে যেতে পারেন বলে জানান সাইদুর রহমান রিন্টু।
