তারেক জিয়া দেশে আসার পর গণজোয়ার সামলাতে পারবেন তো?: ফখরুল

fokrul

নজর২৪, ঠাকুরগাঁও- লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে আসার পর গণজোয়ার শুরু হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

বুধবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি নিজ বাসভবনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।

 

‘তারেক জিয়া লন্ডনে বসে ষড়যন্ত্র করছে, সাহস থাকলে দেশে এসে রাজনীতি করুক’ আওয়ামী লীগের এ দাবির বিষয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘২০০৮ সালে মঈন ইউ আহমেদ ও ফখরুদ্দীনের অবৈধ সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে আওয়ামী লীগ তখন থেকেই তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করে। তারেক জিয়ার কোথাও কোনও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা লুটপাটের প্রমাণ না পেলেও তাকে অপপ্রচারের মাধ্যমে কলুষিত করার অপচেষ্টা করে আসছে। বিপরীতে দেশে গণতন্ত্র না থাকায়, অলিখিত সেন্সরশিপ চালু থাকায় তারেক জিয়ার বিষয়ে বিএনপি সত্য কথা প্রকাশ করার সুযোগ পায়নি।’

 

তিনি বলেন, ‘আপনারা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে নির্বাচন দেন। তাহলে তারেক জিয়া দেশে আসার পর যে গণজোয়ার শুরু হবে, সেটা আপনারা সামলাতে পারবেন তো? কারণ তারেক রহমান মানুষের কাছে এতটাই প্রিয় তা তখন বোঝা যাবে।’

 

প্রধানমন্ত্রীর নাগরিক ফোরামে দেওয়া বক্তব্য, ‘বিএনপি দেশের ভালো চায় না। তারা ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করছে, যেহেতু তারা দুর্নীতি করতে পারছে না’- জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সাধারণ মানুষকে জিজ্ঞাসা করে দেখুন, তারা সরকারের যেকোনও দফতরে প্রয়োজনে গেলে দুর্নীতি ছাড়া কোনও কাজ হয় না। বিগত সময়গুলোতে ক্ষমতায় থেকে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা যে বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছেন, সেই পরিমাণটা হিসাব করলেই আপনারা বুঝতে পারবেন দুর্নীতিটা কোথায় এবং কী পরিমাণে হচ্ছে।’

 

পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যেখানে এই প্রকল্প শুরু হয়েছিল ১০ হাজার কোটি ডলারের বাজেটে, তা এখন দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার কোটি ডলারে। এভাবে সবগুলো মেগা প্রকল্পকে বাড়িয়ে সরকারের শীর্ষ নেতারা লুটপাট করে নিজেদেরকে অর্থ সমৃদ্ধ করেছেন।’

 

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মনে করে, হিন্দুরা দেশ ছেড়ে চলে গেলে তাদের সম্পত্তি পাবে। আর না গেলে তাদের ভোট পাবে। এর অংশ হিসেবে দেশে হিন্দুদের উপর হামলা করা হচ্ছে। আর দায় চাপাচ্ছে বিএনপি নেতাদের উপর। কিন্তু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ এতো বোকা না, তারা বুঝে গেছে কারা এর পিছনে দায়ী। এখন তারা আওয়ামী লীগের দিকেই আঙুল তুলছে। কুমিল্লার মন্দিরের পুরোহিতের কথায় তা ফুটে উঠেছে।

 

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বেই এ হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। একইভাবে রংপুরের পীরগঞ্জে হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা আটক হয়েছে। এতেই প্রমাণিত হয় এগুলো কারা করছে।

 

ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, হিন্দুদের মন্দিরে, বাড়িঘরে হামলা হয়েছে। এ জন্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। অপরদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, দেশে কোনো মন্দির ভাংচুর হয়নি। তার এসব বক্তব্য দুঃখজনক। এর দায় সরকারকেই নিতে হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *