নজর২৪ ডেস্ক- দেশে এবার আগেভাগেই শীত নামবে। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রয়ারি পর্যন্ত শীতকাল হিসেবে ধরা হলেও এই বছর নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আস্তে আস্তে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেতে থাকবে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া দফতরের কর্মকর্তারা।
আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন ‘দেশের উত্তর-পশ্চিমে একটা উচ্চ চাপ বলয় বিরাজমান করছে এখন। এই উচ্চ চাপ বলয় বঙ্গপোসাগরের জলীয় বাষ্পকে দক্ষিণের দিকে ঠেলে দেবে। ফলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের কাছাকাছি থাকবে। সেই তাপমাত্রাটা গড়ে ১৮ থেকে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করবে অঞ্চলভেদে। সেই হিসেবে নভেম্বরে এই তাপমাত্রা থাকবে। যেটা শীতকালে সাধারণত গড় তাপমাত্রা থাকে’।
তবে প্রথম শৈত্যপ্রবাহটি ডিসেম্বর মাসের শুরুতেই হবে বলে জানিয়েছেন মল্লিক। এটি হবে একটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ একটি তীর্ব্র শৈত্যপ্রবাহ হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মল্লিক বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে শৈত্যপ্রবাহের সংখ্যা কমে গেছে। তীব্র এবং মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের সময়সীমাটাও কমে আসছে। তবে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ যেগুলো হচ্ছে, সেটি দীর্ঘ সময় ধরে বিরাজ করছে বলে উল্লেখ করেন এই আবহাওয়াবিদ। এসব শৈত্যপ্রবাহ দশ দিন থেকে শুরু করে একুশ দিন পর্যন্ত থাকছে।
আবহাওয়ার অধিদফতর বলছে, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেট, নেত্রকোনা, যশোর, কুষ্টিয়া কখনো কখনো রাঙ্গামাটি অঞ্চলে এই মৃদু শৈত্যপ্রবাহ হবে এবার।
সোমবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে রংপুরের ডিমলায় ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস; এসময় ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কক্সবাজারে ৩৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় ছিল ৩২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়াগত বৈশিষ্ট্য পর্যালোচনা করে নভেম্বরে বৃষ্টি, লঘুচাপ, তাপমাত্রার বিষয়ে দুয়েকদিনের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস দেবে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
তবে তিন মাসের (অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর) দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাসে বলা হয়েছে- নভেম্বরে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে ১-২ টি নিম্নচাপ হতে পারে; এর মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে কমবে।
ডিসেম্বর মাসের শেষার্ধে উত্তর, উত্তর পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে ১-২ টি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ (সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ও মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ (৬-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বয়ে যেতে পারে।
