‘দেশে যুবকদের কর্মসংস্থান নেই’, আক্ষেপ করলেন জিএম কাদের

নজর২৪, ঢাকা- দেশে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান নিয়ে কারও ভাবনা আছে বলে মনে করেন না জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। ক্রমাগত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজদের উৎপাত নিয়েও উষ্মা প্রকাশ করেছেন তিনি।

 

সোমবার (০১ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান-এর বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে জাতীয় যুব সংহতি আয়োজিত জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় জি এম কাদের এসব কথা বলেন।

 

জি এম কাদের বলেন, ‘দেশে যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই। যুবকদের কর্মসংস্থান নিয়ে কারো ভাবনা আছে বলেও মনে হয়না। দেশে কাজ না পেয়ে যুবকরা জীবনের ঝুকি নিয়ে বিদেশের পথে ছুটছে। অবৈধভাবে ডিঙি নৌকা নিয়ে সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে মৃত্যু হচ্ছে যুবকদের। আবার মরু পথে ও জঙ্গল দিয়ে বিদেশে যেতেও জীবন দিচ্ছে যুবকরা। এর চেয়ে দুঃখজনক ঘটনা আর হতে পারে না।’

 

প্রবাসী শ্রমিকদের নিয়ে তিনি বলেন, ‘জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেউ কোনোভাবে বিদেশে যেতে পারলেই, আয়ের বেশিরভাগই দেশে পাঠিয়ে দেয়। এতে আমাদের রেমিট্যান্স সম্বৃদ্ধ হয়, বড় বড় প্রকল্প হাতে নিতে পারে সরকার। কিন্তু সেই প্রবাসীরা দেশে ফিরে বিমানবন্দরে নেমেই হয়রানির শিকার হয়। দেখার যেন কেউ নেই। আবার ডলারের সাথে টাকার মূল্য কমে গেছে, মানুষের আয় বাড়ছে না।’

 

বেকার সমস্যা সমাধানে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশে বিশাল বিশাল মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে, কিন্তু দেশের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান নেই। আগামী দিনে সকল মেগা প্রকল্পে দেশীয় যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। প্রায় সাড়ে ৪ কোটি বেকারের কর্মসংস্থানের জন্য বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে।’

 

দ্রব্যমূলের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে জি এম কাদের বলেন, ‘অকারণেই দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাচ্ছে। পাঁচ টাকা কেজিতে যে সবজি বিক্রি করছে কৃষক, তা মধ্যস্বত্বভোগী আর চাঁদাবাজদের কবলে পড়ে পঞ্চাশ থেকে ষাট টাকা দরে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। ঘাটে ঘাটে চাঁদা দিতে হচ্ছে, চাঁদা তুলতে বাজারে অফিস খুলে বসেছে চাঁদাবাজরা। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে মানুষ। দেখার যেন কেউ নেই।’

 

তিনি বলেন, ‘বিদেশে কোনো পণ্যের দাম ১ টাকা বেড়ে গেলে, আমাদের দেশে ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়। যারা তদারকি করবে তারাও দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়ার কারণে সুরাহা নেই। দলীয়করণ করা হয়েছে সকল সেক্টরে, ফুটপাতও ইজারা দেয়া হয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *