কুমিল্লার ঘটনায় পরিপূর্ণভাবে প্রমাণিত সরকার ব্যর্থ: ​ডা. জাফরুল্লাহ

নজর২৪, কুমিল্লা- ​গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, “কুমিল্লার ঘটনায় পরিপূর্ণভাবে প্রমাণিত সরকার চরম ব্যর্থ। এ ঘটনায় লোক দেখানো ধরপাকড় করে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে চাইছে তারা। কারণ দেশে বর্তমান সরকারের পায়ের নিচে মাটি নেই।”

 

শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দীঘির উত্তর পাড় পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন “অবমাননা” ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় উদ্ভূত পরিস্থিতি সরজমিনে পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

 

তিনি বলেন, “এতো পুলিশ থাকা সত্ত্বেও কিভাবে এই ঘটনাটি ঘটল, তা দুঃখজনক ও ন্যক্কারজনক। হামলা হয়েছে কক্সবাজার, নাসিরনগর, শাল্লায় ও হাজীগঞ্জে। এতো বড় ঘটনা ১৯৪৭ এর পরও আর ঘটে নাই। পুলিশ দিয়ে মসজিদ ও মন্দির পাহারা দিতে হয়নি। এখন পুলিশ দিয়ে কেন পাহারা দিতে হবে। কারণ মানুষের মনকে বিষিয়ে তোলা হচ্ছে। সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে।”

 

জাফরুল্লাহ আরও বলেন, “এটা সরকারেরও চরম ব্যর্থতা এবং আমাদেরও ব্যর্থতা। তাই সরকারকে পদত্যাগ করে জাতীয় সরকার গঠন করে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে হবে। এ পর্যন্ত একটি ঘটনারও বিচার হয়নি। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কুমিল্লার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত আইনে আওতায় এনে ১৫ দিনের মধ্যে সমাধান করা উচিত।”

 

এসময় তার সঙ্গে ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ভাসানি অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, গণস্বাস্থ্যের কেন্দ্রের প্রেস উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, ভাসানি অনুসারী পরিষদের নেতা শহীদ আসাদের ভাই ডা. নুরুজ্জামান, আল মুকিত, সাইফুল ইসলাম শুভ, গণসংহতি আন্দোলন-কুমিল্লার আহবায়ক ইমরান জুলকারনাইন ইমন প্রমুখ।

 

জোনায়েদ সাকি বলেন, যারাই পুজামন্ডপে কোরআন রেখেছেন তারা পরিকল্পিতভাবেই একটি সহিংসতা তৈরী করতে চাচ্ছে। আমরা এই ঘটনার নিন্দা জানাই এবং বিচার দাবি করি। যারা কোরআন অবমাননা করেছেন এবং প্রতিমা ভেঙেছেন তাদের সবাইকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

 

এছাড়া একই সময়ে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক নীলচন্দ্র ভৌমিকের নেতৃত্বে পৃথক প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং এ ঘটনার নিন্দা জানান। প্রতিনিধি দলে ছিলেন পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাড. সুব্রত চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক মনিন্দ্র কুমার নাথ, অ্যাড. শ্যামল রায়, কেন্দ্রীয় নেতা চন্দন ভৌমিক, জেলা শাখার সভাপতি চন্দন রায়, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. তাপস বকশি, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতা নির্মল পাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *