রাজবাড়ীতে আ.লীগের সম্মেলনকে ঘিরে উৎসবের আমেজ

রাকিবুল ইসলাম রাফি, রাজবাড়ী প্রতিনিধি: কে হচ্ছেন রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, কে ধরছেন জেলা আওয়ামী লীগের হাল, কে হবেন নৌকার প্রকৃত কাণ্ডারী। এ নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই চলছে জেলার সর্বত্র মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা।

 

বিত্তবানদের ড্রয়িংরুম থেকে শুরু করে চায়ের দোকান পর্যন্ত চলছে এর জল্পনা-কল্পনা। জেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ ছয় বছর পর রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়েছে আগামী ১৬ অক্টোবর। প্রতি তিন বছর অন্তর কমিটি হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ ছয় বছর হয়ে গেলেও আর কোনো সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি।

 

দীর্ঘদিন যাবৎ সম্মেলন না হওয়ায় ঝিমিয়ে পড়েছে জেলা আওয়ামী লীগ। স্থবির হয়ে পড়েছে তাদের দলীয় কার্যক্রম। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন পদে থাকা নেতাদের কাছে মূল্যহীন হয়ে পড়েছে তৃনমূল আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা।

 

দীর্ঘ ছয় বছর পর রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ায় চাঙ্গা হয়ে উঠেছে জেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা। তাদের মধ্যে বইছে উৎসবের আমেজ। জেলা কমিটিতে জায়গা করে নিতে ইতোমধ্যে দৌঁড়ঝাপ শুরু হয়েছে নেতাকর্মীদের। কেন্দ্রীয় ও জাতীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে ২০১৫ সালে শহীদ খুশি রেলওয়ে মাঠে রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জিল্লুল হাকিমকে সভাপতি ও কাজী কেরামত আলীকে সাধারণ সম্পাদক করে সর্বশেষ কমিটি করা হয়েছিল।

 

নতুন করে কমিটি ঘোষণার সংবাদে স্থানীয় নেতাকর্মীরা নতুন কমিটিতে ঢোকার জন্য লবিং গ্রুপিং শুরু করেছে। জেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটিতে প্রধান দুটি পদের মধ্যে সভাপতি পদে রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জিল্লুল হাকিম, রাজবাড়ী জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী, জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর আকবর আলী মর্জি। সাধারণ সম্পাদক পদে রাজবাড়ী জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কাজী ইরাদত আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ সোহেল রানা টিপু ও রাজবাড়ী পৌরসভার সাবেক মেয়র মোহাম্মদ আলী চৌধুরী চেষ্টা ও তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

তৃণমূল নেতারা বলেন, আমরা চাই বঙ্গবন্ধুর মতো আদর্শবান নেতা। যারা আওয়ামী লীগ আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন বাজি রেখে কাজ করবেন। দলের সর্বস্তরের লোকই শুধু নয় জনগণের সেবক হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠার জন্য যিনি সর্বদা লড়াই করে যাবেন এমন নেতৃত্ব আমাদের কাম্য।

 

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর বলেন, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আগামী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে অযোগ্যদের স্থান পাওয়ার কোনই সুযোগ নেই। কারণ আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন ডিজিটাল বাংলাদেশ, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়ার জন্য অবশ্যই রাজবাড়ী বাসীকে নির্ভীক, যোগ্য, সৎ এবং নিষ্ঠাবান নেতাদের নিয়েই একটি কমিটি গঠন করা হবে এ বিষয়ে আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *