নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি- টাঙ্গাইলের নাগরপুরে শত বছরের সড়ক নিজ জমি দখলে নেওয়ার কথা বলে প্রভাব খাটিয়ে ইট-সিমেন্ট এর দেওয়াল নির্মাণ করে সড়ক বন্ধের পায়তারা করছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী মহল।
টাঙ্গাইল-আরিচা আঞ্চলিক মহাসড়কের নাগরপুর চৌ-রাস্তা সংলগ্ন এলাকায় নাগরপুর মৌজার অংশে অবস্থিত আহসান উদ্দীন মিয়ার বাড়ি সংলগ্ন সড়ক দিয়ে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (সদর হাসপাতাল), যদুনাথ ময়দান (হাসপাতাল মাঠ), শহীদ শামসুল হক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সহ নাগরপুর সদর এলাকায় সরাসরি যাতায়াত করে স্থানীয় বসবাসরত জনগণ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০০ বছর যাবৎ পুরনো এই সড়কটি ব্যাপক জনসমাগমে চলমান রয়েছে। নাগরপুরের অভ্যন্তরীণ সহজ যাতায়াতের অন্যতম জনপ্রিয় সড়ক এটি।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, আহসান উদ্দীন মিয়া নামক এক ব্যক্তি ঐতিহাসিক পুরনো এই সড়কে দেওয়াল নির্মাণের জন্য উদ্যত হলে এলাকাবাসী কর্তৃক বাধাপ্রাপ্ত হয় কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তি বাধাপ্রাপ্ত হয়েও প্রভাব দেখিয়ে কয়েক দফা দেওয়াল নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করে স্থানীয়রা।
স্থানীয় এলাকাবাসী ময়নাল বলেন, এই সড়ক দিয়ে স্কুল-মাদ্রাসার শত শত শিক্ষার্থী চলাচল করে। গত বছর মোঃ হাসেম আলীর প্রায় ২ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখল করে এবং পরবর্তীতে প্রাচীর নির্মাণ করা হয়। এখানে প্রাচীর নির্মাণ হলে এলাকাবাসীর স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হবে এবং দুর্ভোগ বাড়বে।
এই সড়কে প্রতিদিন যাতায়াতকারী চা বিক্রেতা সিদ্দীক জানায়, এই এলাকায় প্রায় একশত বাড়ি বিদ্যমান। এই সড়কে আগে রিক্সা, ভ্যান ও ঘোড়ার গাড়ি চলাচল করতো। একজন লোকের জন্য সড়ক এখন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই এই সড়কে প্রতিবন্ধকতা দূর হোক এবং জনগণ স্বাভাবিক চলাচল করুক।
উক্ত ঘটনা প্রসঙ্গে নাগরপুর সদর ৫ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য (মেম্বার) আকবর হোসেন বলেন, প্রায় শত বছরের পায়ে হাটা সড়ক এটি। বন্যার সময় এই সড়ক বিকল্প সড়ক হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়। সড়কটি যেন বন্ধ না হয় আমরা সবাই বসে সমস্যা সমাধানে চেষ্টা করবো।
চলমান সড়ক বন্ধ করার বিষয়ে নাগরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এ কে এম কামরুজ্জামান মণি জানায়, আমরা এই সড়কের ব্যাপারে শুনেছি। এই সড়ক অনেক পুরাতন সড়ক। এখানে জায়গা পরিমাপের আবেদন পেয়েছি। আমরা জায়গা পরিমাপ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নিবো। এই সড়ক বন্ধ হলে চলাচল দুর্ভোগ বাড়বে।
উক্ত বিষয়ে আহসান উদ্দীন মিয়ার সাথে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করা হলেও কোনো মন্তব্য করতে রাজি নয় তিনি।
প্রাচীন সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ এলাকাবাসীর নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। সচল সড়ক বন্ধ করে জনসাধারণের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি করা মোটেও উচিত নয় এমনটাই বলছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ। নাগরপুর উপজেলা প্রশাসনকে অবৈধ সড়ক বন্ধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে লিখিত অভিযোগ করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। তারা আশাবাদী সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবে।
