অভিযুক্ত শিক্ষককে বরখাস্ত, প্রশাসনিক ভবন এখনও অবরুদ্ধ

রাজিব আহমেদ রাসেল, স্টাফ রিপোর্টার: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমানিত হওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

 

সেই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কর্মকান্ড বন্ধ রাখার নির্দেশনাও দেয়া হলেও শিক্ষককে স্থায়ী বহিষ্কার চেয়ে এখনো আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা। বৃহস্প্রতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে এই ঘোষনার পরে অনশণ স্থগিত করে শিক্ষার্থীরা।

 

কিন্তু প্রশাসনিক ভবনের ভিতরে ভিসিসহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অবরুদ্ধ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনেই অবস্থান করছে শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার সময় আবু জাফর হোসাইন নামের আন্দোলনরত একজন শিক্ষার্থী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

অনশণরত শিক্ষার্থী নোমান সদ্দিকী শান্ত জানান, অভিযুক্ত শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে কিন্তু আমরা সেটি মানি না। তার স্থায়ী বহিষ্কার চেয়ে আমাদের এই আন্দোলন চলছে। তবে আমরা তদন্ত কমিটির ওপরে আস্থা রেখে আমাদের আমরন অনশণ কার্যক্রমটি স্থগিত করেছি। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদন আমাদের বিপক্ষে গেলে আমরা আমাদের আন্দোলন আরও বেগবান করবো।

 

রবীন্দ্র অধ্যায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও তদন্ত কমিটির সভাপতি লায়লা ফেরদৌস হিমেল বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার ও ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণার পরেও শিক্ষার্থীরা সেই শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার চেয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

 

গতকাল থেকে প্রশাসনিক ভবনে ভিসিসহ কয়েকজনকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। কাল শুধু তদন্ত কমিটির ৫ শিক্ষককে তারা বের হতে দিয়েছে। তারা হয়তো ভাবছে যেহেতু ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে তাহলে হয়তো এই প্রতিবেদন আর জমা হবেনা বা ব্যবস্থা নেয়া হবেনা।

 

তিনি আরও বলেন, আমরা তাদের বুঝিয়েছি আন্দোলন না করার জন্য। আমরা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেই, যদি সেটা তোমাদের পছন্দ না হয় প্রয়োজনে তখন তোমরা এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে। আগামী সোমবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হতে পারে বলেও তিনি জানান।

 

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রেজারার আব্দুল লতিফ বলেন, শিক্ষার্থীরা এখনো বাইরে অবস্থান নিয়ে আছে। তবে আমি যখন নামাজে গেলাম তখন তারা গেট খুলে দিয়েছিল।

 

যেহেতু আমরা আপাতত সেই অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে একটা ব্যবস্থা নিয়েছি এবং তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং ক্যাম্পাসও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এরপরও তাদের এই আন্দোলন ছেলে মানুষি ছাড়া আর কিছু না। যদি এভাবেই চলতে থাকে তাহলে আমাদের শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের সহযোগিতা নিতে হবে।

 

উল্লেখ্য, ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় সেই শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার চেয়ে অনশণ করা শিক্ষার্থীরা একের পর এক অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এপর্যন্ত ৫ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে ২ জনকে দেয়া হয়েছে প্রাথমিক চিকিৎসা। বাকি ৩ জনের মধ্যে দুইজন শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে আবার আন্দোলনে ফিরেছে। আজ সকালে আরেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায় অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬ তম সিন্ডিকেট সভায় সেই অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে সাময়িক বহিষ্কার ও পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাস বন্ধের সিধ্যান্ত নেয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *