নজর২৪, ঢাকা- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, দেশে অনেক সমস্যা। তাই সব সমস্যা নিয়ে কথা না বলে যারা সমস্যা সৃষ্টি করছে, সেই সরকারকে যদি পদত্যাগ করাতে পারি, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থেকে সরাতে পারি, তাহলে সবকিছুর সমাধান হবে। সুতরাং আমাদের সব চিন্তা-চেতনা-সামর্থ্য একত্রিত করে আমরা এক দফায় থাকি। অন্য কোনো দাবি, অন্য কোনো দফা নয়। সরকার পতনের এক দফা আন্দোলন চাই।
শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ের মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম দলের উদ্যোগে ‘নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
গয়েশ্বর বলেন, ‘আমার মনে হয় আমাদের এই নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নিয়ে কোনো আলোচনা বা আন্দোলনের দরকার নেই। শেখ হাসিনার সরকার পতনের দাবিতেই একমাত্র আন্দোলন হওয়া উচিত। কারণ সকল সমস্যার মূল হোতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকার।
‘আমাদের সকল চিন্তা, চেতনা, সামর্থ্য, শক্তি একত্রিত করে এই আন্দোলনে নেমে পড়তে হবে।’
গয়েশ্বর আরও বলেন, ‘কয়েক জন ফেরেশতা দিয়ে যদি একটা নির্বাচন কমিশন হয়, আর সরকার যদি একজন শয়তান থাকে; তাহলে কমিশনের কিছুই করার থাকে না। সুতরাং নির্বাচন কমিশন কে হবে, না হবে- সে ব্যাপারে আমাদের কোনো চিন্তা করার দরকার নাই। আমাদের দরকার সরকার পতন।
‘আমাদের প্রত্যেকের মামলা, মোকদ্দমা, হয়রানি, নির্যাতন, কারাবাস সবকিছুর উত্তর এক জায়গায়, যার বিরুদ্ধে লড়ছি তাকে সরাতে হবে। আর যার জন্য লড়ছি সেই গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে সমালোচনা করে গয়েশ্বর বলেন, ‘তিনি ঘরে বসেছিলেন গত দুই বছর। বিশ্ব এখনও করোনা মুক্ত নয়। ১৮৬ জন এর বিশাল বহর নিয়ে সফরে গেলেন, কত টাকা খরচ হয়েছে সেটা পরের কথা। আমার প্রশ্ন, তাদের কতজন কত টাকা সঙ্গে নিয়ে গেছেন বিদেশে রেখে আসার জন্য? সেটা আমার জানার বিষয়। কারণ স্পেশাল ফ্লাইট যেটায় প্রধানমন্ত্রী যান, সেটার জন্য সব দরজা খোলা থাকে। ঢাকা এয়ারপোর্ট কিছু জিজ্ঞেস করেনা। এ জন্য বিদেশে টাকা রেখে আসার সবচেয়ে বড় সুযোগ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যাওয়া। তাই ইতিমধ্যেই যদি কয়েক লাখ কোটি টাকা পাচার হয়, তাহলে সেটা করেছে প্রধানমন্ত্রীর লোক জনই, প্রধানমন্ত্রীর ছত্রছায়ায় করেছে।’
গয়েশ্বর বলেন, ‘আমার জানা মতে, প্রজন্ম দলের মতো প্রায় অর্ধশত সংগঠন আছে, প্রত্যেকে বিএনপিকে ভালোবাসে। তাহলে এই ছোট ছোট দ্বীপ করে ফেললেন কেন। এখন সময় হয়েছে এসব ছোট ছোট দ্বীপ মিলে একটা দ্বীপপুঞ্জ গঠন করার। প্রত্যেক সংগঠনের শীর্ষ নেতাকর্মীদের নিয়ে আলোচনা করতে হবে। তাদের ছোট ছোট চিন্তা একসঙ্গে এক দিকে প্রবাহিত করতে হবে।’
