নজর২৪, ঢাকা- সন্তানকে অপহরণের অভিযোগ এনে মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে দুই শিশুর মা জাপানি নারী নাকানো এরিকোকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে বাবা ইমরান শরীফ।
মানহানিকর বক্তব্য দেয়ায় জনসম্মুখে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে নাকানোকে। ক্ষমা না চাইলে তার নামে মামলা করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে নোটিশে।
ইমরান শরীফের পক্ষে তার আইনজীবী ফাওজিয়া করিম মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুই সন্তানের মা নাকানো এরিকোর গুলশানের ঠিকানায় এ নোটিশ পাঠান। নোটিশে বলা হয়, মা নাকানো এরিকো মিথ্যা তথ্য দিয়ে বাবা ইমরান শরীফের মানহানি করছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে এসে নাকানো বিভিন্নভাবে শিশু দুটির বাবাকে হয়রানি ও মানহানি করেছে। তারা বলছে, শিশু দুটিকে নাকি বাবা জাপান থেকে কিডন্যাপ করে নিয়ে এসেছে। কানাডিয়ান স্কুলে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে, বাবা নাকি শিশু দুটিকে অপহরণ করেছে। যাতে শিশু দুটির স্কুলের ভর্তি বাতিল হয়।
সেখানে চোখ বেঁধে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে, যাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে নোটিশে তুলে ধরা হয়। অথচ তার কোনো চোখ বাঁধা হয়নি। এই সব মিথ্যা তথ্য দিয়ে শিশু দুটির বাবার মানহানি করেছে। বার বার শিশুর বাবাকে অপহরণকারী বলা হয়েছে। এভাবে বলে বাবাকে নানা ভাবে হয়রানি করছে এমন অভিযোগ করা হয় নোটিশে।
সাত দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণের ৫ কোটি টাকা না দিলে ও প্রকাশ্য ক্ষমা না চাইলে নাকানো এরিকোর বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয় আইনি নোটিশে।
গত ১৯ আগস্ট শরীফ ইমরানের জিম্মায় থাকা দুই শিশু সন্তানকে ৩১ আগস্ট হাজির করার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তাদের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন আদালত। শিশুদের মা জাপানি নাগরিক নাকানো এরিকোর করা রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট এসব আদেশ দেন।
পরে দুই শিশুকে নি-র্যা-তনের অভিযোগে তাদের মা পৃথক মামলা দায়ের করলে গত ২২ আগস্ট শিশুদের উদ্ধার করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি। এরপর তাদের তেজগাঁওয়ের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছিল।
পরে গত ৩১ আগস্ট সেখান থেকে দুই শিশুকে গুলশানস্থ বাসায় একসঙ্গে ১৫ দিন বসবাস করার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ঢাকার সমাজ সেবা অধিদফতরের উপ-পরিচালক পদের একজনকে বিষয়টি তদারকির নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ডিএমপি কমিশনারকে তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ২১ ফেব্রুয়ারি ইমরান তার দুই মেয়ে জেসমিন ও লাইলাকে নিয়ে দুবাই হয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন। পরে দুই মেয়েকে জিম্মায় চেয়ে বাংলাদেশের হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন দুই শিশুর মা জাপানি নাগরিক এরিকো।
