নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা হাজার বছরের আবহমান গ্রাম বাংলার এক অনন্য ঐতিহ্য। এ প্রতিযোগিতা উৎসব প্রিয় বাঙালির প্রাণকে আরো রাঙিয়ে তোলে।
বারাপুষার এ নৌকা বাইচ দীর্ঘ দিনের ঐতিহ্য। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবার বিকেলে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় বেকড়া ইউনিয়নের বারাপুষা গ্রামের নই নদীতে এক আকর্ষণীয় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবটার ঠিক তেমন নামও নেই।
নেই কোন আয়োজক, সংগঠক বা পৃষ্ঠপোষক। প্রজন্ম ধরে চলে আসছে তো আসছেই! কোন নাম সঠিক তার প্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাস জানার সুযোগ না হলেও অধিকাংশই প্রবীণ বলছেন এটি ভাদ্র মাসের তের তারিখের তেরাবেরা উৎসব।
নৌকাবাইচ দেখতে হাজারো নারী-পুরুষ ভিড় জমায়। এ সময় মাঝি-মাল্লাদের হই-হুল্লোড় ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে নদীর দুই পার। দুপুরের খাবারের পর আসলে মূল আনন্দ উৎসব। পরিবার, আত্মীয়স্বজন নিয়ে নৌকা ভাসিয়ে দেন নদী ও বিলের জলে।
শতশত না হাজার হাজার নৌকায় লাখো মানুষ ছলাৎ ছলাৎ শব্দের তালে নেচে গেয়ে ভুলে যান আগে পরের দুঃখ-কষ্টের কথা। কাঠুরী গ্রাম থেকে নৌকা বাইচে আসা মো.আনিসুর রহমান বলেন, আমার পাশের গ্রাম বারাপুষা জন্মের পড় থেকেই এই দিনে নৌকা বাইচ দেখে আসতেছি। গত বছর করোনার প্রভাব বেশি থাকার কারণে লোক সমাগম কম হয়েছিল কিন্তু এবার অনেক বেশি।
বারাপুষা গ্রামের আঃ কুদ্দুছ বলেন, আমাদের কাছে এই উৎসবটি ঈদের চেয়েও আনন্দের। ঈদে মেয়ে ও মেয়ের জামাই নাইয়র না আসলে সমস্যা নাই কিন্তু এইদিন না আসলে খবর আছে, প্রতিটি বাড়ি গমগম করছে আত্মীয়স্বজনে। আগের রাত থেকে চলে পিঠেপুলি তৈরির উৎসব। সেখানে তালের হরেক রকম পিঠা যেন বাধ্যতামূলক। আর দিনভর গ্রামীণ মুখরোচক খাবার তো আছেই।
একই গ্রামের রহমান মিয়া বলেন, ভাদ্র মাসের ১৩ তারিখ ঘিরে এই গ্রামে একটি উৎসব চলে আছে বহু বছর ধরে। কতো বছর ধরে চলে আসছে এমন প্রশ্ন যদি দশ থেকে শত বছরের কারো কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা উত্তর দেন এমন করে বাবা দাদার কাছ থেকে শুনে আসছে আর দাদা শুনেছে তার দাদার কাছ থেকে! যেন দুইশ পাঁচশ বছর কমই বলা হবে!
বেকড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো.শওকত হোসেন বলেন, নদী আর নৌকার সঙ্গে গ্রাম-বাংলার মানুষের মিতালি দীর্ঘকাল ধরে। এক সময় নৌকা বাইচ ছিল গ্রাম বাংলার মানুষের বিনোদনের অংশ। আধুনিক সভ্যতার কারণে প্রায়ই কমে যাচ্ছে এর আয়োজন। উল্লেখ্য নৌকা বাইচে দুইটা নৌকা ডুবে গেলেও কেউ হতাহত হয় নাই।
