নজর২৪, ঢাকা- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘৭৫-এর পরে যারা সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা দখল করে, সেখানে যেমন আমাদের দলেরও কিছু বেইমান মুনাফেক, মীরজাফর ছিল, ছিল খন্দকার মোশতাক গং। তাদের শক্তিটা ছিল জিয়াউর রহমান।’
১৫ আগস্টের পর যে ভূমিকা নেয়ার কথা ছিল, সেটা কেউ নেয়নি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতার লাশ, সকলের লাশ ১৬ তারিখ পর্যন্ত ওই ৩২ নম্বরেই ছিল। দাফন কাফনের ব্যবস্থাটুকু পর্যন্ত করা হয়নি।’
মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ছাত্রলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় (ভার্চ্যুয়াল) এসব কথা বলেন তিনি। রাজধানীর খামারবাড়ীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।
সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকারীদের প্রত্যেকেই চেনা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এমন মাস নেই জিয়াউর রহমান তার বউকে নিয়ে আমাদের বাড়িতে না আসত, কর্নেল নূর আসত, ডালিম সারাদিন তার বউ শ্বাশুড়ি আমাদের বাড়িতে পড়ে থাকত, মোশতাক তো মন্ত্রী ছিল। এতবড় একটা বেঈমানি তারা করল!’
মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর কমান্ডার হিসেবে জিয়াউর রহমানের দায়িত্ব পালনের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেখানে খালেদ মোশাররফ আহত হয়ে গেল। জিয়াকে সেক্টর কমান্ডার করা হয়েছিল। জিয়াউর রহমান পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কখনও গুলি চালিয়েছে এমন কোনো নজির নেই। এমন নজির কেউ দেখাতে পারবেন না।’
বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জিয়াউর রহমানকে খুনিচক্রের ‘শক্তির মূল উৎস’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন শেখ হাসিনা।
১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দেয়া বঙ্গবন্ধুর খুনি কর্নেল রশিদ ও ফারুকের সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেই ইন্টারভিউতে তারা স্বীকার করেছে। অনেক পত্রিকাতে তাদের বক্তব্য এসেছে যে জিয়াউর রহমান এই খুনিদের সঙ্গে সবসময় ছিল। জিয়াউর রহমানই ছিল মূল শক্তির উৎস। সে বেইমানিটা করেছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, এখনো যুদ্ধাপরাধী, পরাজিত শক্তি এবং ১৫ আগস্টের খুনি যাদের ফাঁসি হয়েছে তারা তো বটেই; তাদের যেমন ছেলেপেলে যারা এবং যুদ্ধাপরাধী যাদের ফাঁসি হয়েছে তাদেরও ছেলেপেলে বা দোসর যারা তারা কিন্তু এখনো বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে, ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। যেসব আন্তর্জাতিক শক্তি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বিরোধিতা করেছিল তাদের কিছু কিছু এদেরকে মদত দিয়ে থাকে। কাজেই এই ব্যাপারে জাতিকে সতর্ক থাকতে হবে।
৭৫ পরবর্তী পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সময় যারা স্থানীয় দালালচক্র, যারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর তারা কোনোদিন চায়নি বাংলাদেশ স্বাধীন হোক। তারপরও যখন বাংলাদেশ স্বাধীন হলো, বিজয় অর্জন করল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পরাজিত হলো। তখন সেই পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই ১৫ আগস্ট এই হত্যাকাণ্ড তারা চালিয়েছিল। এরপরে বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নামটা সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হয়েছিল।
তিনি বলেন, জয় বাংলা স্লোগান, যে স্লোগান দিয়ে লাখো শহীদ রক্ত দিয়েছেন সেই স্লোগান নিষিদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, মুক্তিযুদ্ধের সব কিছু ধ্বংস করা হয়েছিল। ভাবখানা এমন হয়েছিল যে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি। আবার যেন সেই পাকিস্তান একটা প্রদেশ হিসেবে বাংলাদেশ যেন সৃষ্ট এবং সেই পাকিস্তান এসে আবার আমাদের ওপর খবরদারি করবে এটাই যেন অনেকের আকাঙ্ক্ষা ছিল।
জিয়াউর রহমানকে সেনাবাহিনীতে বঙ্গবন্ধুই প্রমোশন দিয়েছিলেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার পর মাত্র তিন বছরের মধ্যে মেজর থেকে তাকে প্রমোশন দিয়ে মেজর জেনারেল করা হয়েছিল। সেটাও করেছিলেন বঙ্গবন্ধু।’
