নজর২৪ ডেস্ক- আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালিতে কোনও বিনিয়োগ করবে না দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপ যমুনা গ্রুপ। বাজারে ইভ্যালির রেপুটেশন ভালো না থাকায় প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে যমুনা গ্রুপ।
বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যমুনা গ্রুপের পরিচালক মনিকা ইসলাম। তিনি বলেন, যমুনা গ্রুপ নিজেরাই ই-কমার্স কোম্পানি করবে।
জানা গেছে, একটি পক্ষ যমুনা গ্রুপকে ভুল বুঝিয়ে এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল।
সূত্র জানায়, যমুনা গ্রুপ জানতে পেরেছে ইভ্যালির ভেতরে সমস্যা বেশি। ভালো কোনও অডিট ফার্ম প্রতিষ্ঠানটির অডিট করতে চায় না। ইভ্যালির নেটওয়ার্ক ছাড়া কিছুই নেই। এমন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগে যমুনা গ্রুপের রেপুটেশন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে। এমন পরিস্থিতিতে ইভ্যালিতে বিনিয়োগ করা থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যমুনা গ্রুপ। অবশ্য এখন পর্যন্ত যমুনা গ্রুপ একটি টাকাও বিনিয়োগ করেনি বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
সূত্র জানায়, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো যমুনা গ্রুপও ইভ্যালির কাছ থেকে টাকা পাবে। সমস্যা কবলিত ইভ্যালির ৫১ শতাংশ শেয়ার কেনার কথা ছিল যমুনা গ্রুপের। পাশাপাশি প্রাথমিকভাবে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করারও পরিকল্পনা ছিল। এরপর ধাপে ধাপে মোট এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করার কথা ছিল। কিন্তু যমুনা গ্রুপ কর্তৃপক্ষ এই পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে যমুনা গ্রুপের নিজস্ব ই-কমার্স কোম্পানি উদ্বোধনের দিন ইভ্যালির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা জানানো হবে।
তবে আজ শুক্রবার (২৭ আগস্ট) যমুনা গ্রুপের মার্কেটিং, সেলস ও অপারেশনস পরিচালক মোহাম্মদ আলমগীর আলম ফেসবুক পোস্ট দিয়ে বলেছেন, শিল্প গ্রুপ যমুনা গ্রুপের উদ্যোগে ইভ্যালির নিরীক্ষা চলছে। ইভ্যালির গ্রাহক ও ইভ্যালিতে পণ্য সরবরাহকারীদের পাওনা-দেনা নির্ধারিত হবে এই নিরীক্ষার মাধ্যমে। এরপর যমুনা গ্রুপ ইভ্যালিতে বিনিয়োগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কথা বলবে।
আলমগীর আলম তাঁর ওই ফেসবুক পোস্টে বলেন, যেহেতু এখনো নিরীক্ষা কার্যক্রম শেষ হয়নি এবং এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনো যমুনা গ্রুপের হাতে আসেনি, তাই ইভ্যালিতে বিনিয়োগের বিষয়ে যমুনা গ্রুপ আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিতে প্রস্তুত নয়। নিরীক্ষা শেষ হলে যমুনা গ্রুপ যথাসময়ে তাদের বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত ও কর্মপদ্ধতি গণমাধ্যমে তুলে ধরবে।
গত ২৭ জুলাই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইভ্যালি জানিয়েছিল, যমুনা গ্রুপ ইভ্যালিতে এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। আপাতত করবে ২০০ কোটি টাকা। এ ব্যাপারে তাদের একটি চুক্তি হয়েছে।
ওই দিন ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল বলেছিলেন, একটি দেশীয় উদ্যোগ হিসেবে আমাদের পাশে আরেকটি দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে পেয়ে আমরা সত্যিই আনন্দিত। যমুনার এই বিনিয়োগ ধারাবাহিক বিনিয়োগের অংশ এবং পরবর্তী ধাপেও তাদের বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এই বিনিয়োগ ইভ্যালির ভবিষ্যৎ উন্নয়ন এবং ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধিতে ব্যয় করা হবে। গ্রাহকদের পুরোনো ক্রয় আদেশের বিষয়ে ওই দিন মোহাম্মদ রাসেল আরও জানান, যেসব ক্রয় আদেশ সরবরাহ অপেক্ষমাণ, সেগুলোর ব্যাপারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও বিনিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, যমুনা গ্রুপের এমডি শামীম ইসলাম বলেছেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উন্নয়নে আমরা দেখছি, স্থানীয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে আমাজন, চীনের ক্ষেত্রে আলিবাবা। তেমনি বাংলাদেশে ইতিমধ্যে নিজের একটি অবস্থান তৈরি করেছে দেশীয় প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি এবং দেশের সাধারণ মানুষের স্বপ্ন পূরণে কাজ করে যাচ্ছে। যমুনা ৫০ বছর ধরে দেশ ও দেশের জনগণের কল্যাণে কাজ করছে। এখন থেকে ইভ্যালি এবং যমুনা গ্রুপ সেই স্বপ্ন পূরণে একে অপরের অংশীদার হলো।’
বিনিয়োগের ব্যাপারে যমুনা গ্রুপের কার্যালয়ে উভয় প্রতিষ্ঠানের চুক্তি হয় ২৭ জুলাই। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চুক্তিতে সই করেন যমুনা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শামীম ইসলাম এবং ইভ্যালির এমডি মোহাম্মদ রাসেল।
