সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর ব্যুরো: ২১ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে কলঙ্কজনক একটি দিন। ২০০৪ সালের এ দিনে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে সন্ত্রাসীদের বোমা হামলায় দলটির ২৪ জন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অসংখ্য নেতাকর্মী।
নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের দিনটি এলে এখনও শোকে বিহ্বল হয়ে ওঠে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলটি। আর এ দিনে নিজ কক্ষে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে ফেসবুক লাইভে গানবাজনা করে আলোচনায় এসেছেন রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার খালাসপীর এলাকার বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মমিনুল ইসলাম রন্টু।
শনিবার (২১ আগস্ট) ফেসবুক লাইভে এসে তিনি গানবাজনা করলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঐ অধ্যক্ষ।
জানা গেছে, অধ্যক্ষ মমিনুল ইসলাম রন্টু ২১ আগস্ট দুপুরে তার নিজ কক্ষে একক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। সেখানে তিনি ছিলেন একমাত্র কণ্ঠশিল্পী। বেশ কয়েকজনকে নিমন্ত্রণ করে তিনি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এ জন্য কলেজের পিয়ানো, তবলা, গিটারসহ বিভিন্ন যন্ত্র এবং কলেজের সাউন্ড সিস্টেম তার কক্ষে এনে বিভিন্ন সিনেমার চটকদার গান পরিবেশন করেন। সেটি ফেসবুক লাইভে সরাসরি প্রচার করা হয়।
তবে কলেজ অধ্যক্ষের এমন কাণ্ড ২১ আগস্ট ট্রাজেডিতে নিহতদের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং তাদের প্রতি অবমাননা বলে মন্তব্য করেছেন ফেসবুক ব্যবহারকারীরা। পুরো ঘটনাটি বর্তমানে পীরগঞ্জজুড়ে ‘টক অব দ্য টাউনে’ পরিণত হয়েছে।
এ বিষয়ে খালাসপীর বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মমিনুল ইসলাম রন্টুর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ২১ আগস্ট গানবাজনা আয়োজনের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘গান গাওয়া ব্যক্তিগত বিষয়। এখানে কে কী বললো বা ভাবলো এতে তার কিছু যায় আসে না!
তিনি জানান, তার গান শুনতে এসেছিলেন পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবের এক নেতা ও এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক। তিনি আর কোনও মন্তব্য করেননি। তবে কিছুক্ষণ পরে আবার নিজেই কল করে এ প্রতিবেদককে জানান, তার গানের বিষয়ে যে সমালোচনা হচ্ছে, এ বিষয়ে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বক্তব্য দিয়েছেন।
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিলন জানান, তিনি গান শোনেননি। শোনার পর বিস্তারিত জানাবেন।
পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক রুহুল আমিন রাজা এ গান শুনেছেন বলে জানালেও আর কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
