নজর২৪ ডেস্ক- দেশীয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের দুটি ব্যাংক হিসাবের লেনদেন পর্যালোচনা করে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকার হদিস পাচ্ছেন না মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সিটি ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংকে ই-অরেঞ্জের দুটি অ্যাকাউন্টের লেনদেন পর্যালোচনা করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের তেজগাঁও বিভাগ। গত এক বছরে সব মিলিয়ে ওই দুটি অ্যাকাউন্টে প্রায় এক হাজার ৬৫০ কোটি টাকা জমা হয়েছে, তবে এর প্রায় পুরোটাই তুলে নেয়া হয়েছে।
তুলে নেয়া টাকার একটি অংশ পণ্য সরবরাহকারীদের কাছে গেলেও প্রায় ৪৫০ কোটি টাকার হিসাব মিলছে না। দুই অ্যাকাউন্টে এখন সব মিলিয়ে জমা আছে ৩ কোটি ১২ লাখ ১৪ হাজার ৩৬৫ টাকা।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ই-অরেঞ্জের সিটি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে ৬২০ কোটি ৬৭ লাখ ২০ হাজার ৭২৯ টাকা। আর এ বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ব্র্যাক ব্যাংকে প্রতিষ্ঠানটির আরেকটি হিসাবে জমা পড়ে ৩৯১ কোটি ৬৭ লাখ ৬১ হাজার ৮৭৯ টাকা।
এই টাকার পুরোটাই গ্রাহকদের বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। অ্যাকাউন্ট দুটির স্টেটমেন্ট বলছে, জমা হওয়ার টাকা থেকে উত্তোলন করা ৬৫৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা গেছে চারটি বাইক বিক্রির প্রতিষ্ঠানে। এরা ই-অরেঞ্জের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ভেন্ডর। বাকি টাকা ই-অরেঞ্জের মালিকসহ নানান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন সময়ে তোলা হয়েছে।
ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক গ্রাহকের করা মামলার তদন্ত করছেন গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিনুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, গ্রাহকদের ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি টাকার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা তিনজন আসামিকে ৫ দিনের রিমান্ডে পেয়েছি। সব কিছু যাচাই-বাছাই করে আমরা শিগগিরই মামলাটির একটি সুরাহা করতে পাবর। সেই সঙ্গে কে কীভাবে কত টাকা আত্মসাৎ করল, সেটাও বের করতে পারব।’ সূত্র- নিউজবাংলা।।
