বন্ধ মিলে সুদিন ফেরাতে নতুন পরিকল্পনা

সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর ব্যুরো: রংপুরের একমাত্র ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান শ্যামপুর সুগার মিল ১৯৬৪ সালে ১১১ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়। গড়ে ওঠার তিন বছরের মধ্যে মিলটিতে উৎপাদন শুরু হবার পর লাভে থাকলেও ২০০০ সালের পর থেকে টানা লোকসান মুখে পড়ে মিলটি।

 

গত দশ মাড়াই মৌসুমে প্রায় ৩৬৫ কোটি টাকা লোকসানের পর শিল্প, বাণিজ্য,অর্থ ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি মিলটির মাড়াই কার্যক্রম বন্ধের সুপারিশ করে। এরপর গত বছরের ডিসেম্বরে ২০২০-২১ মাড়াই মৌসুমে মিলের কার্যক্রম বন্ধ করে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন।

 

বন্ধের ৮ মাস পর লোকসান কাটাতে মিলের পড়ে থাকা জমিতে নতুন করে বিনিয়োগের মাধ্যমে মিলকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রুপান্তরিত করতে বেশ কিছু পরিকল্পনার প্রস্তাবনা দিয়েছে মিল কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের নেয়া পরিকল্পনার মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে- কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপন।

 

কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে উৎপাদিত আলু দিয়েই গড়ে তোলা যাবে পটেটো চিপস তৈরীর কারখানা,ছোট আকারের চকলেট তৈরীর কারখানা,ভূট্টা ব্যবহার করে হাঁস-মুরগি, মৎস্য ও গবাদিপশুর খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা এবং চাহিদার শীর্ষে থাকা এই অঞ্চলের উৎপাদিত হাড়িভাঙ্গা আমের জুস তৈরীর কারখানা। এছাড়া এই এলাকায় আলুর ব্যপক চাষ হওয়ায় তা সংরক্ষণে একটি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করা।

 

এই অঞ্চলের পানির হার্ডনেস অনেক কম হওয়ায় মিনারেল ওয়াটার প্ল্যান্ট নির্মান এবং মিলের আয় বাড়াতে গোডাউন ও দোকান নির্মান করে ভাড়া দেয়ার পরিকল্পনার চিন্তা কর্তৃপক্ষের। ফিলিং স্টেশন ও এলপিজি স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। এবং বর্তমান সময়ে সবচেয়ে লাভজনক বিনোদন কেন্দ্র ও রিসোর্ট নির্মাণের প্রস্তাবনা রয়েছে।

 

প্রস্তাবিত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করে মিলের কার্যক্রম চালু করা হলে শ্রমিক-কর্মচারী ও মিলনির্ভর এ অঞ্চলের হাজারো মানুষের সুদিন ফিরবে। আর নতুন এ সকল শিল্প কারখানায় নতুন আরো কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

 

শ্যামপুর চিনিকল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান জানান, মিলের কার্যক্রম বন্ধ হবার পর ৫ মাস থেকে বেতন-ভাতা বন্ধ। এতে শ্রমিক-কর্মচারীদের জীবন দূর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে মিলের মাড়াই কার্যক্রম চালুর আহবান জানান তিনি।

 

এদিকে মাড়াই স্থগিতকৃত মিল চালুকরণ ও চলমান পরিস্থিতিতে মিলের শ্রমিক-কর্মচারীদের সাথে মতবিনিময় করেন বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। এসময় তিনি বলেন, দেশের চিনিকলগুলোতে উৎপাদিত খাঁটি ও অর্গানিক চিনির চাহিদা বাহিরের দেশে আকাশচুম্বী।

 

বর্তমান চিনিকলের মেশিনগুলোর উৎপাদনক্ষমতা কমে গেলে সরকার সেগুলোর আধুনিকীকরণ করছে না কেন,শিল্প-কারখানা বন্ধ করা হচ্ছে কার স্বার্থে? জনগণের জীবিকা বন্ধ না করে ভর্তুকি দিয়ে হলেও সুগারমিলগুলো চালু করতে সরকারের প্রতি আহবান জানান তিনি।

 

শ্যামপুর সুগারমিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ আহসান হাবিব জানান, লোকসানে থাকা মিলকে লাভজনক করতে আমরা বেশকিছু পরিকল্পনার প্রস্তাবনা দিয়েছি। এতে মিলটিকে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব হবে। মিলটিকে চালু করতে এসব পরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাই করে পদক্ষেপ গ্রহন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *