নজর২৪ ডেস্ক- আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির বিরুদ্ধে সাড়ে ৫ হাজারেরও বেশি অভিযোগ জমা হয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে। এর মধ্যে বেশিরভাগ অভিযোগই টাকা পরিশোধ করে দীর্ঘদিন পণ্য না পাওয়ার।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযোগ শুনানির কাজে নিয়োজিত অধিদফতরের প্রতিটি কর্মকর্তার রুমে ইভ্যালির বিরুদ্ধে ফাইলের স্তূপ জমেছে। গ্রাহকের স্বার্থ বিবেচনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এগুলোর নিষ্পত্তি করছে সংস্থাটির কর্মকর্তারা।
অধিদফতর সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হয়ে গ্রাহক জাতীয় ভোক্তা অধিদফতরে ১৩ হাজার ৩১৭টি অভিযোগ করেছেন। এসব অভিযোগের ১১ হাজার ৪৩৬টি বা ৮৬ শতাংশ নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
অধিদফতর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে ইভ্যালির বিরুদ্ধে। গত জুন পর্যন্ত চার হাজার ৯৩২টি অভিযোগ পড়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। গত জুলাইয়ে আরও পাঁচ শতাধিক অভিযোগ আসে। চলতি আগস্টেও অভিযোগ আসছে। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ইভ্যালির বিরুদ্ধে সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে। তবে এর বেশিরভাগই অর্থাৎ গত জুন পর্যন্ত ৮৪ শতাংশ নিষ্পত্তি করেছে অধিদফতর।
২০১৮ সালে যাত্রা শুরু হওয়া ইভ্যালি একটি বাংলাদেশ ভিত্তিক ই-কমার্স প্লাটফর্ম। লোভনীয় ডিসকাউন্ট কিংবা ক্যাশব্যাকের অফার প্রসঙ্গে ইভ্যালির নাম সর্বাগ্রে। স্বল্প সময়ে অনলাইন ক্রেতার মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করলেও প্রতিষ্ঠানটি এখন গ্রাহক ভোগান্তি ও সমালোচনার শীর্ষে অবস্থান করছে।
ভোক্তা অধিদফতর সূত্র জানায়, ইভ্যালি কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই নানা অভিযোগ আসছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ গ্রাহকের অভিযোগ ছিল অগ্রিম টাকা পরিশোধের পরও সময়মত হাতে এসে পৌঁছাচ্ছে না অর্ডার করা পণ্য। এখন এই তালিকায় যোগ হয়েছে আরও কিছু অভিযোগ।
ইভ্যালির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (মার্চেন্ট) কেউ কেউ গ্রাহকদের পণ্য দিচ্ছে না। সরবরাহকারীরা বলছে, ভাউচারের বিপরীতে ইভ্যালি তাদের পাওনা পরিশোধ করেনি। আবার চেক দিলেও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে টাকা না থাকায় সেই চেক ব্যাংকে জমা দিতে নিষেধ করছে ইভ্যালি। এমন হয়রানির শিকার হয়ে অনেক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন ভোক্তা অধিদফতরে।
এ বিষয়ে ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেলের কাছে জানতে চাইলে তিনি কিছু বলেননি। লিখিত প্রশ্ন করা হলেও কোনো উত্তর দেননি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে মোহাম্মদ রাসেল জানান, গ্রাহকদের অর্ডার অথবা রিফান্ড কিছুটা বিলম্ব হলেও অবশ্যই পেয়ে যাবেন, সময় দিন, ইভ্যালির ভেলকি পজিটিভলি যেকোনো সময় দেখতে পারবেন।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) বাবলু কুমার সাহা বলেন, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো লোভনীয় অফার দিচ্ছে সাধারণ গ্রাহকরা। গ্রাহকরা তাদের সেই ফাঁদে পা দিয়ে বিপদে পড়ছে। আমাদের এখানে ই-কমার্সের যেসব অভিযোগ এসেছে তার বেশিরভাগই ইভ্যালির বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটির কোনো পণ্য উৎপাদন করে না কিন্তু ৫০ শতাংশ ছাড় দিয়েছে। বেশিরভাগ গ্রাহক পণ্য অর্ডার করে মূল্য পরিশোধ করেও পণ্য পাচ্ছে না। আমাদের কাছে যেসব অভিযোগ আসছে আমরা তা দ্রুত নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করছি। আইন অনুযায়ী শাস্তি ও জরিমানা করছি।
