নজর২৪, ঢাকা- জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রশাসনের সংঘাতময় পরিস্থিতি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্রের লক্ষণ’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (২০ আগস্ট) বিকেলে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জনগণের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। এজন্য এখন নির্বাচিত প্রতিনিধি বলতে তারা যা বুঝাচ্ছে, সেই ধরনের লোকগুলোর সঙ্গে প্রশাসনের সম্মুখ যুদ্ধ শুরু হয়েছে। শুধু বরিশাল না, ইতিপূর্বে অনেক জায়গায় আমরা দেখেছি যে, প্রশাসনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংঘ’র্ষ হচ্ছে, সংঘাত হচ্ছে। এটা ব্যর্থ রাষ্ট্রের লক্ষণ।’
‘এই অবস্থা থেকে উত্তরণে যেটা প্রয়োজন, সেটা হলো- আমাদের নির্বাসিত নেতা, যিনি আমাদের থেকে বহু দূরে অবস্থান করছেন, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা। আমাদের নেত্রী- যিনি এখনো পর্যন্ত বন্দি অবস্থায় আছেন, তাকে মুক্ত করা; দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠিত করা। এই লক্ষ্যে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, দলকে সুসংগঠিত করতে হবে’- বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, ‘অন্যান্য গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে সংগ্রাম ও লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে এই দানবীয় শক্তিকে পরাজিত করে এখানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তাদেরকে বাধ্য করতে হবে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের মধ্য দিয়ে জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তাদের ব্যর্থতার কারণে করোনাকে এখানে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়নি। আজকে অর্থনীতি নিচের দিকে যাচ্ছে। মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না, মানুষ দরিদ্র থেকে আরও দরিদ্র হচ্ছে এবং অর্থনীতি ধীরে ধীরে রসাতলের দিকে যাচ্ছে।’
বর্তমান সরকার কোনো গণতান্ত্রিক নীতিতে বিশ্বাস করে না মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, তারা মানুষের অধিকারে বিশ্বাস করে না। তারা মানবাধিকারে বিশ্বাস করে না।
স্মৃতি সংসদের সভাপতি ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এতে সভাপতিত্ব করেন। সংসদের সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের পরিচালনায় আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস।
ভার্চুয়াল আলোচনায় ব্যারিস্টার সালাম তালুকদারের সহধর্মিনী মাহমুদা সালাম, একমাত্র মেয়ে সালিমা বেগমসহ স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়াও অংশ নেন স্মৃতি সংসদের এম সিরাজুল হক, রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সুলতান মাহমুদ বাবু, নিলুফার চৌধুরী মনি, ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম, ওয়ারেস আলী মামুন, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, এম তোজাম্মেলন হোসেন, শামসুজ্জামান মেহেদী, মরহুম ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের জামাতা মাহমুদুল হাসান প্রমুখ।
