নজর২৪, ঢাকা- ঢাকাই ছবির আলোচিত নায়িকা পরীমণিকে নিয়ে গত ১ আগস্ট রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি) গোলাম সাকলায়েন তাঁর সরকারি ফ্ল্যাটে অবস্থান করেন বলে অভিযোগ উঠে।
ওই দিনের ঘটনার একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ফাঁস হয়েছে। এরপর জল গড়ায়নি। পরীমণির সঙ্গে সম্পর্কের বিষয় সামনে আসার পর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে সাকলায়েনকে।
আরও পড়ুন-
সাকলায়েনকে পছন্দ করি, সুযোগ থাকলে দেখা করতে চাইঃ পরীমণি
অবশেষে পরীমনিকে নিয়ে মুখ খুললেন ডিবি কর্মকর্তা সাকলায়েন
আজ মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) বিকালে পরী-সাকলায়েনের আর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। একটি ইউটিউব চ্যানেলে এই ভিডিওটি ফাঁস হওয়ার পর তোলপাড় শুরু হয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, সাবেক ডিবি কর্মকর্তা সাকলায়েন একটি কেক পরীকে সঙ্গে নিয়ে কেক কাটছেন। পরে পরীমণি তাকে কেকটি খাইয়ে দেয়। এসময় সাকলায়েনকে চুম্বন করেন পরীমনি। পরে সাকলায়েনও তাকে কেক খাইয়ে দেন।
সূত্র জানায়, পরীমণির সঙ্গে এডিসি গোলাম সাকলায়েনের পরিচয় হয় গেল জুন মাসে। ১৩ জুন উত্তরা বোট ক্লাবে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা করেন পরীমণি।
পরদিন উত্তরা থেকে নাসিরকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগ। ওই সময় পরী মণিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয় গোয়েন্দা কার্যালয়ে। তখনই পরীর সঙ্গে প্রথম পরিচয় সাকলায়েনের। পরবর্তীতে প্রেমে জড়িয়ে যান তারা।
সেই কারণে ওই পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় একাধিকবার যাতায়াতও করেছেন পরীমণি। এছাড়া তারা বিভিন্ন সময় গাড়িতে করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরাও করেছেন।
সূত্র জানায়, পরীমনিকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে ডিবি কর্মকর্তা গোলাম সাকলায়েনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্কটি ফাঁস হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সাকলায়েনের বাসভবনের সিসিটিভি ফুটেজে পরীমনির বক্তব্যের সত্যতা পান।
সিসিটিভি ফুটেজ দেখা যায়, ১ আগস্ট সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে পরীমণির সাদা রংয়ের হ্যারিয়ার গাড়িটি (ঢাকা মেট্রো-ঘ ১৫ ৯৬ ৫৩) নিয়ে গোলাম সাকলায়েনের রাজারবাগের অফিসার্স কলোনির মধুমতি ভবনের ৯/সি নম্বর সরকারি ফ্ল্যাটে বাসায় আসেন। প্রথমে সেই গাড়ি থেকে লাল রংয়ের টি-শার্ট পরে বের হন সাকলায়েন। সাদা রংয়ের একটি স্লিপিং গাউন পরে নামেন নায়িকা পরীমণি।
প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর সেই রাতে সোয়া ২টায় ওই ভবন থেকে বের হন পরীমণি। তবে রাতে বের হওয়ার সময় পরীমণির পরনে ছিল কালো রংয়ের পোশাক, আর সাকলায়েনের গায়ে সাদা টি-শার্ট।
ডিবির একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, সাকলায়েন নিজেকে অবিবাহিত দাবি করে মামলার তদন্তের সময় পরীমণির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। কিন্তু সাকলায়েন বিবাহিত, বিষয়টি জানার পর পরীমণি ও তার মধ্যে মনমালিন্য সৃষ্টি হয়। পরে দীপুর উদ্যোগে পরীমণির সঙ্গে তার সম্পর্ক স্বাভবিক হয়। গত কোরবানি ঈদের সময় পরীমণির বাসায় তিন দিন ছিলেন সাকলায়েন। তখন বাসায় তারা ছাড়া আর কেউ ছিল না।
এদিকে আলোচিত-সমালোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনির বাসায় অভিযান ও গ্রেপ্তার নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যেই তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগ ওঠার পর গোলাম সাকলায়েনকে গতকাল শনিবার ডিবি থেকে সরিয়ে ডিএমপির পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম) পশ্চিম বিভাগে বদলি করা হয়। এর আগে ডিবি’র সব ধরনের কার্যক্রম থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এছাড়া পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে শুরু হয়েছে বিভাগীয় তদন্ত। গঠন করা হচ্ছে উচ্চ পর্যায়ের ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি।
পুলিশ সদর দপ্তরের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বলেছেন, কমিটিতে পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও সিআইডির একজন করে প্রতিনিধি রাখা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে গোলাম সাকলায়েন সংবাদমাধ্যমকের কাছে দাবি করেন, মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা হিসেবে পরীমনি তাঁকে একবার ফোন করেছিলেন। তাঁর বাসায় পরীমনির যাতায়াত ছিল না এবং তাঁর সঙ্গে কোনো সম্পর্কও নেই।
