তদন্তে গিয়ে পরীমণির সাথে ডিবি কর্মকর্তার প্রেম! সিসিটিভি ফুটেজ ফাঁস, পুলিশে তোলপাড়

নজর২৪ ডেস্ক- আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণি কাণ্ডে এবার নাম জড়ালো পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার। তার নাম গোলাম সাকলায়েন শিথিল। তিনি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবি’র গুলশান বিভাগের এডিসি হিসেবে কর্মরত।

 

সম্প্রতি ঢাকার অদূরে তুরাগতীরে বহুল আলোচিত বোট ক্লাব মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ছিলেন সাকলায়েন। ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত চলার সময় নায়িকা পরীমণির সাথে সখ্য গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেই সূত্র ধরে গড়ে উঠেছিল প্রেমের সম্পর্ক। এরপর নিয়মিত পরীমণির বাসায় যাতায়াত শুরু করেন সেই পুলিশ কর্মকর্তা।

 

মাঝে মাঝে গাড়ি নিয়ে বের হতেন দু’জনে। বিবাহিত সেই পুলিশ কর্মকর্তা নিজেকে পরিচয় দিয়েছিলেন অবিবাহিত হিসেবে। সর্বশেষ পরীমণি সেই পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় এসে অবস্থান করেন প্রায় ১৮ ঘণ্টা। পরীমণি গ্রেফতারের পর অকপটে স্বীকার করেছেন সবকিছু। বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় চলছে পুলিশে।

 

র‍্যাবের হাতে পরীমণি গ্রেফতারের পর গোয়েন্দা পুলিশের ঊর্ধ্বতন এ কর্মকর্তার সাথে তার ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি উঠে এলো আলোচনায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

 

গত ১৩ জুন ঢাকা বোট কাবে গিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ করেন চলচ্চিত্র নায়িকা পরীমণি। এরপর দিনই উত্তরার একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদকে। পরে এই ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগ পরীমণিকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তখন থেকেই গোলাম সাকলায়েন শিথিলের সঙ্গে পরিচয় হয় পরীমণির। এরপর থেকেই শুরু হয় যোগাযোগ।

 

 

জিজ্ঞাসাবাদে পরীমণি জানিয়েছেন, নিয়মিত কথা বলতে বলতে গোলাম সাকলায়েন শিথিলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয় তার। এরপর তারা নিয়মিত গাড়ি নিয়ে ঘুরতে যেতেন। এমনকি গোলাম সাকলায়েন শিথিল তার বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন। সর্বশেষ তিনি গত ১ আগস্ট গোলাম সাকলায়েন শিথিলের সরকারি বাসভবন রাজারবাগের মধুমতির ফ্ল্যাটে যান।

 

পরীমণির সহযোগী দীপু জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, গত কোরবানির ঈদের পর তিনি পরীমণির বাসায় গিয়ে জানতে পারেন গোলাম সাকলায়েন এসে তার বাসায় তিন দিন ছিলেন। তিনি গোলাম সাকলায়েনের সঙ্গে পরীমনির প্রেমের সম্পর্কের কথা জানতেন। পরীমণিই তাকে এই বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে গোলাম সাকলায়েন নিজেকে অবিবাহিত বলে দাবি করেন। কিন্তু পরে সাকলায়েন বিবাহিত জানতে পারলে পরীমণি ক্ষুব্ধ হন। এ সময় গোলাম সাকলায়েন তার ডিভোর্স হয়ে গেছে বলে দাবি করেন, এমন তথ্য জানান দীপু।

 

উল্লেখ্য, গোলাম সাকলায়েন বিবাহিত এবং তার স্ত্রী প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা। ঢাকার পার্শ্ববর্তী একটি জেলায় তার স্ত্রী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তাদের একটি সন্তানও রয়েছে।

 

গোলাম সাকলায়েনের সরকারি বাসভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রাজাবাগ পুলিশ অফিসার্স কলোনির মধুমতি ভবনের গেটের সামনে ১ আগস্ট সকাল ৮ টা ১৫ মিনিটে একটি সাদা গাড়ি এসে থামে। লাল রংয়ের টি-শার্ট পরিহিত একজন প্রথমে নামেন। এরপর কোলে একটি কুকুরসহ সাদা রংয়ের জামা পরে নামেন আলোচিত নায়িকা পরীমণি। রিসিপশনে থাকা সদস্যদের কাছ থেকে চাবি নিয়ে দু’জন লিফটে প্রবেশ করেন। পরে গাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয় একটি ট্রলি ব্যাগ। এরপর রাত দেড়টার দিকে ওই ভবনের সামনে আবার আসে পরীমণির গাড়ি। কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে যাওয়ার সময় পরীমণির পরনে ছিল কালো রংয়ের পোশাক।

 

 

সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, পরীমণিকে গ্রেফতারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদে গোয়েন্দা কর্মকর্তা গোলাম সাকলায়েনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্কটি ফাঁস হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত রাজারবাগের মধুমতির বাসভবনের কেয়ারটেকার শামীমকে সিসিটিভি ফুটেজের ডিভিআরসহ পুলিশ সদর দফতরে ডেকে পাঠানো হয়। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পরীমণির বক্তব্যের সত্যতা পান। তবে শুক্রবার রাত পর্যন্ত গোলাম সাকলায়েনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

 

যোগাযোগ করা হলে পরীমণির গাড়িচালক নাজির হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ১ আগস্ট পরীমনিকে নিয়ে তিনি রাজারবাগের সরকারি কোয়ার্টারে এক বাসার সামনে নামিয়ে দিয়ে আসেন। এরপর তিনি সেখান থেকে বনানীর বাসায় চলে যান। পরে রাতে তাকে পরীমণি গাড়ি নিয়ে তার খালাতো বোন ও বোন জামাইকে তুলে রাজারবাগের ওই বাসায় যেতে বলেন।

 

এক প্রশ্নের জবাবে নাজির হোসেন বলেন, ‘ওই লোকের (পুলিশ কর্মকর্তা সাকলায়েন) সঙ্গে পরীমণি দুই দিন রাতের বেলা হাতিরঝিলে ঘুরতে গিয়েছিলেন। হাতিরঝিলে গাড়িতে বসেই তারা মদ খেয়েছে।’

 

এসব অভিযোগ সম্পর্কে যোগাযোগ করা হলে গোলাম সাকলায়েন শিথিল বলেন, পরীমনির সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। তবে তা প্রেমের সম্পর্ক নয় এবং তারা বিয়েও করেননি। পরীমণি তার বাসায় যাওয়ার কথাও তিনি অস্বীকার করেন। পরে তার বাসায় যাওয়ার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে জানালে এ বিষয়ে তিনি আর কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

সূত্র – বাংলা ট্রিবিউন।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *