নিম্নমানের বাইসাইকেল, না নিয়েই ফিরে গেলেন গ্রাম পুলিশরা

নজর২৪ ডেস্ক- বস্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে গ্রাম পুলিশের মাঝে বিতরণ করার জন্য বাইসাইকেল কেনা হয়েছিল। কিন্তু সেগুলো এতই নিম্নমানের যে, গাইবান্ধায় গ্রাম পুলিশরা বাইসাইকেল না নিয়েই ফিরে গেলেন।

 

অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদার নিম্নমানের বাইসাইকেল সরবরাহের চেষ্টা করেছিলেন। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, নমুনার সঙ্গে মিল না থাকলে ঠিকাদারের কাছ থেকে বাইসাইকেল নেওয়া হবে না।

 

গাইবান্ধা জেলার সাত উপজেলার ৮১ ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত গ্রাম পুলিশদের (দফাদার ও মহল্লাদার) ২০২০-২১ অর্থবছরে পোশাক ও সরঞ্জামাদি বিতরণের জন্য এক কোটি চার লাখ ৯১ হাজার টাকা ব্যয় বরাদ্দে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে রংপুর, গাইবান্ধা, খুলনা ও ঢাকার ঠিকাদাররা অংশ নেন। এর মধ্যে গাইবান্ধা শহরের ঠিকাদার নজরুল হকের সিয়াম স্টোর মালপত্র সরবরাহের কার্যাদেশ পায়।

 

সিডিউল অনুযায়ী পুরুষদের ৭৯০টি ও মহিলাদের ২০টি ইন্ডিয়ান-বিএসএ/হিরো/দুরন্ত বাংলাদেশি সাইকেল সরবরাহ করার কথা। কিন্তু ঠিকাদার নজরুল হক বিভিন্ন যন্ত্রাংশ জোড়া দিয়ে নিম্নমানের বাইসাইকেল তৈরি করে হিরো স্টিকার লাগিয়ে তা বিতরণের চেষ্টা করেন। গত ২৯ জুলাই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সদর উপজেলার গ্রাম পুলিশদের মাঝে বিতরণ করতে গেলে গ্রাম পুলিশরা এসব নিম্নমানের বাইসাইকেল গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। পরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বাইসাইকেল বিতরণ স্থগিত করা হয়।

 

গ্রাম পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সন্তোষ কুমার বলেন, ২৯ জুলাই গ্রাম পুলিশদের বাইসাইকেল দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ডাকা হয়। সেখানে বিতরণের জন্য সাজিয়ে রাখা সাইকেলগুলো সিডিউল মোতাবেক ‘হিরো’ ব্র্যান্ডের না হওয়ায় কেউ সেগুলো নেয়নি। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরে সিডিউল মোতাবেক সাইকেল বুঝিয়ে নেওয়ার পর হস্তান্তর করা হবে।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী গ্রাম পুলিশ বলেন, নানা কাজে তাদের প্রত্যন্ত এলাকায় যেতে হয়। সরবরাহ করা সাইকেল এতটাই দুর্বল যে তা নিয়ে পথে নানা মুশকিল হবে। নমুনার সাথে ঠিকাদারের দেওয়া সাাইকেলের মিল নেই। জোড়াতালি দেওয়া পার্টস জুড়ে ঝাকি খেলেই খুলে যাবে। তিনি বলেন, তাদের মতো সাড়ে ৬ হাজার টাকা বেতনের চাকরের পক্ষে বারবার মেরামত করাটাও সম্ভব নয়।

 

তবে অভিযুক্ত ঠিকাদার নজরুল হকের দাবি, যথানিয়মে দরপত্রে অংশ নিয়ে তিনি বাইসাইকেল সরবরাহের কার্যাদেশ পান। বাইসাইকেলগুলো কোনোভাবেই নিম্নমানের নয়। দরপত্রে যা আছে তারচেয়েও ভালো সাইকেল দেওয়া হয়েছে। তিনি এ সব কর্মকর্তাদের দেখিয়ে জমা দিয়েছেন।

 

এ ব্যাপারে গাইবান্ধা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোছা. রোখছানা বেগম বলেন, বিতরণ করার জন্য নয়, গ্রাম পুলিশদের সাইকেলগুলো দেখানোর জন্য ডাকা হয়েছিল। প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া নমুনার সাথে মিল না থাকলে ঠিকাদারের কাছ থেকে সাইকেল সরবরাহ নেওয়া হবে না।আপত্তির কারণে তা বিতরণও করা হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *