ঢাকা    ৫ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ



আবেদন নাকচ, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন আর বাড়ছে না

প্রকাশিত: ৯:৫৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৩, ২০২১

আবেদন নাকচ, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন আর বাড়ছে না

নজর২৪ ডেস্ক- জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বিবেচনায় সরকারি চাকুরীজীবিদের বেতন বাড়ানোর দাবি উঠলেও নতুন পে-স্কেল (বেতন-কাঠামো) আপাতত হচ্ছে না। এ বিষয়ে সরকারের কোনো চিন্তাভাবনা নেই। করোনা মহামারির প্রাদুর্ভাবে আর্থিক সংকটের কারণে এ-সংক্রান্ত আবেদন নাকচ করে দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়।

 

সচিবালয়ভিত্তিক সংগঠন ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশন’ গত জুনের শেষে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর আবেদন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে একটি চিঠি দিয়েছিল।

 

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের কাছে লেখা ওই চিঠিতে বলা হয়, বর্তমানে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। এ বিবেচনায় সরকারি চাকুরেদের বেতন-ভাতা বাড়ানো অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

 

আরও পড়ুন-

কথা রাখছে না ভারত, সীমান্তে বাংলাদেশিদের বুকে গু,লি চালাচ্ছে বিএসএফ

স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১৫ জুলাই থেকে সব খোলা, ২৩ থেকে আবার ‘লকডাউন’

 

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা চিঠিটি গ্রহণ করেছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠির একটি কপি সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগে পাঠিয়েছেন।

 

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব সাজ্জাদুল হাসান বলেন, ‘জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় বেতন-ভাতা বাড়ানোর জন্য তারা (বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশন) আবেদন করেছিল। আমরা সেটি অর্থ বিভাগে পাঠিয়েছি।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘কেউ আবেদন করলে আমরা তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিই। এটিও পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।’

 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠি পাওয়ার পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদারের সভাপতিত্বে গত সপ্তাহে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেলের প্রসঙ্গটি উপস্থাপন করা হলে তা নাকচ হয়ে যায়।

 

বৈঠকে অংশ নেয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে আমরা বিষয়টি আমলে নিইনি।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘এ বছর আপাতত হচ্ছে না। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং দেশের অর্থনীতি ভালো হলে ২০২২ সালে নতুন বেতন-কাঠমো নিয়ে চিন্তাভাবনা করা যেতে পারে।’

 

বর্তমানে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকসহ জনপ্রশাসনে মোট জনবল প্রায় ২২ লাখ, যারা নিয়মিত সরকারি কোষাগার থেকে বেতন পান।

 

বিদায়ী অর্থবছরে এদের পেছনে বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে পেনশন বাবদ খরচ হয় অতিরিক্ত ২০ হাজার কোটি টাকা।

 

আরও পড়ুন-

নিলামে উঠছে ১২টি বিমান, দাম না পেলে বিক্রি হবে কেজি দরে

ঈদের পর ১৪ দিন বন্ধ থাকবে সব গার্মেন্টস

 

চলতি অর্থবছরে (২০২১-২২) সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতায় বরাদ্দ দেয়া হয় মোট ৭০ হাজার ৭০১ কোটি টাকা এবং পেনশন বাবদ ২৩ হাজার কোটি টাকা।

 

অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ইতোমধ্যে যথেষ্ট বাড়ানো হয়েছে। এটা বিলাসিতা ছাড়া আর কিছু না।

 

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পিআরআই-এর নির্বাহী পরিচালক ও আইএমএফ-এর সাবেক কর্মকর্তা ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন করে বেতন বাড়ানোর দাবি অযৌক্তিক। করোনাকালীন সংকট মোকাবিলায় ব্যয় সংকোচনের বিষয়ে সরকারের নীতি আরও কঠোর হওয়া উচিত।

 

এ ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় আরও কাটছাঁট করে সাশ্রয় করা টাকা স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার পেছনে ব্যয় করার পরামর্শ দেন এই অর্থনীতিবিদ।

 

সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পরপর সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়। সে হিসাবে ২০২০ সালে আরেকটি পে-স্কেল হওয়ার কথা। এখন চলছে ২০২১ সাল।

 

এ অবস্থায় সচিবালয়ভিত্তিক সরকারি কর্মচারীদের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশন নতুন পে-স্কেল গঠনের দাবি তোলে।

 

সরকারি চাকরিজীবীদের ৭৫ শতাংশই কর্মচারী।

 

সর্বনিম্ন ৮ হাজার ২৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা মূল ধরে ২০১৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সরকারি কর্মচারীদের জন্য অষ্টম বেতন কাঠামো অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা, যাতে বেতন বেড়েছে গ্রেড ভেদে ৯১ থেকে ১০১ শতাংশ।

 

২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর অষ্টম বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশ করে সরকার।

 

২০১৬ সালের জুলাই থেকে এই বেতন কাঠামো অনুযায়ী মূল বেতনের সঙ্গে সব ধরনের ভাতা কার্যকর হয়। তবে মূল্যস্ফীতির কারণে ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট আর বাস্তবায়িত হয়নি।

 

অন্য সংবাদ পড়ুন-

এবার ঈদের জামাত ঈদগাহ ও খোলা ময়দানে

 

নজর২৪, ঢাকা- সামাজিক দূরত্ব মেনে ঈদের জামায়াত মসজিদ, ঈদগাহ বা খোলা জায়গায় আয়োজন করা যাবে। জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয় করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে স্থানীয় প্রশাসন। তবে নামাজ শেষে কোলাকুলি করা যাবে না।

 

মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

 

গত বছর করোনা সংক্রমণের কারণে খোলা জায়গার পরিবর্তে মসজিদে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করা হয়।

 

 

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘করোনাভাইরাসজনিত রোগ (কোভিড-১৯) সংক্রমণের পরিস্থিতি বিবেচনায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গত ৩০ জুন ও ৫ জুলাই কতিপয় বিধি-নিষেধ আরোপ করে নির্দেশনা জারি করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বর্তমান কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক নিম্নবর্ণিত শর্তসাপেক্ষে ১৪৪২ হিজরি/২০২১ সালের পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজের জামায়াত আদায়ের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।’

 

ক. করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) এর স্থানীয় পরিস্থিতি ও মুসল্লিদের জীবন-ঝুঁকি বিবেচনা করে স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয় করে যথোপযুক্ত বিবেচিত হলে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের জারি করা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক ঈদুল আজহার জামায়াত মসজিদ, ঈদগাহ বা খোলা জায়গায় আয়োজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

 

খ. মসজিদে ঈদের নামাজ আয়োজনের ক্ষেত্রে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দ্বারা জীবাণুমুক্ত করতে হবে। মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন।

 

গ. প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে ওজু করে মসজিদ/ঈদগাহে আসতে হবে। ওজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান-পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে।

 

ঘ. করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে মসজিদ/ঈদগাহে ওজুর স্থানে সাবান, পানি ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে।

 

ঙ. মসজিদ/ঈদগাহের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার/হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান ও পানি রাখতে হবে।

 

চ. ঈদের নামাজের জামায়াতে আগত মুসল্লিকে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না।

 

ছ. ঈদের নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। এক কাতার অন্তর অন্তর দাঁড়াতে হবে।

 

জ. শিশু, বয়োবৃদ্ধ, অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের ঈদের নামাজের জামায়াতে অংশগ্রহণ নিরুৎসাহিত করা হলো।

 

ঝ. সর্বসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।

 

ঞ. করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ঈদের জামায়াত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো পরিহার করতে হবে।

 

ট. করোনা মহামারির এ বৈশ্বিক মহাবিপদ হতে রক্ষা পেতে বেশি বেশি তওবা, আস্তাগফিরুল্লাহ ও কুরআন তিলাওয়াত করতে হবে এবং আমাদের কৃত অন্যায়-অপরাধের জন্য ঈদের নামাজ শেষে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।

 

ঠ. খতিব, ইমাম, মসজিদ/ঈদগাহ পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক নির্দেশনাগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

 

২। উল্লিখিত নির্দেশনা লংঘিত হলে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট মসজিদের পরিচালনা কমিটিকে উল্লিখিত নির্দেশনা বাস্তবায়ন করার জন্য অনুরোধ জানানো হলো।

 

আগামী ২১ জুলাই (বুধবার) দেশে মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। ঈদের দিন দু-রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করে থাকেন মুসলমানরা।

 

এর আগে মঙ্গলবার সকালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, পবিত্র ঈদুল আজহা পালন উপলক্ষে ১৪ই জুলাই থেকে ৮দিন বিধিনিষেধ শিথিল করেছে সরকার। তবে ঈদের পর ২৩শে জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৫ই আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত ফের কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগামী ২৩ জুলাই থেকে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিসগুলো বন্ধ থাকবে। এসময় সকল প্রকার শিল্প কলকারখানাও বন্ধ থাকবে।