সরকারের আচরণ হানাদার বাহিনীর মতো: মির্জা ফখরুল

নজর২৪, ঢাকা- বর্তমান সরকার ‘পাকিস্তানি বাহিনী’র মতোই জনগণের অধিকার খর্ব করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২৫ জুন) রাতে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব এই অভিযোগ করেন।

 

তিনি বলেন, ‘আজকে যারা জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছেন, তারা হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর মতোই মানুষের সমস্ত অধিকার খর্ব করছে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনা ছিল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। তাকে ধ্বংস করে দিয়ে মানুষের আশা-আকাঙ্খাকে ভুলণ্ঠিত করে এক দলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্য তারা আজকে মানুষের ওপর অ/ত্যা/চার-জু/লুম-নি/র্যা/ তন চালিয়ে যাচ্ছে।’

 

‘আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, বিএনপি সবসময় স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি। রণাঙ্গনে যারা যুদ্ধ করেছে তাদের সংগঠিত দল। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে যে আশা-আকাঙ্খা নিয়ে এদেশের মানুষ স্বাধীনতা চেয়েছিল, যুদ্ধ করেছিলো সেই গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করবার জন্য বিএনপি সংগ্রাম করছে, লড়াই করছে। আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের সেই সংগ্রাম ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে সফল হবে এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন এবং গণতন্ত্র মুক্তি পাবে।’

 

স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতির প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা সরকারকে দেখতে পাই, সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে স্বাধীনতার সত্য ইতিহাস বিকৃত করছে। তারা তাদের তৈরি করা ইতিহাস আজকে জাতির সামনে, পরবর্তি প্রজন্মের সামনে নিয়ে আসছে।’

 

তিনি বলেন, ‘এদের (আওয়ামী লীগ) ঘটনাবলী দেখলে মনে হয় যে, এদেশে কোনো মুক্তিযুদ্ধ কেউ করে নাই একমাত্র একজন ব্যক্তি ছাড়া। অথচ তিনি সেই দিন দেশেই ছিলেন না, পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি ছিলেন। আওয়ামী লীগের এই সরকার আজকে একবারের জন্য মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এমএজি ওসমানী সাহেবের নাম উচ্চারণ করেন না, তারা সেই সময়ে প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ সাহেবের অবদানের কথা একবারের জন্য বলেন না, লক্ষ্ লক্ষ মুক্তিযোদ্ধা যারা সাধারণ মানুষ থেকে এসছিলো, যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলো তাদের কথা তারা উচ্চারণ করেন না।’

 

জিয়ার বিরুদ্ধে অপপ্রচার রুখতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ঐকবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকে সেই ক্যাম্পেইনকে প্রতিরোধ করবার জন্য, সেই প্রচারকে বন্ধ করার জন্য এবং নতুন প্রজন্মকে সত্য ইতিহাস তুলে ধরবার জন্যে আমাদেরকে সেভাবে সত্য ইতিহাস তুলে ধরতে হবে’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *