আবু ত্ব-হা ইস্যু: সমালোচকদের ধুয়ে দিলেন গোলাম রাব্বানী

নজর২৪, ঢাকা- আলোচিত ইসলামি বক্তা হিসেবে পরিচিত আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান নিখোঁজের ৮দিন পরে অবশেষে বাড়িতে ফিরে এসেছেন। নিখোঁজের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেকেই।

 

উক্ত ঘটনা নিয়ে চড়াও হয়ে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম রাব্বানী নিজ ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। আবারও আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানকে খুঁজে পাওয়ায় পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন গোলাম রাব্বানী।

 

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর স্ট্যাটাসটি নজর২৪ এর পাঠকদের জন্য এখানে তুলে ধরা হলো..

 

“আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানসহ চারজন মানুষ সহসা নিখোঁজ হবার পর, স্বভাবতই তাদের দ্রুত খুঁজে বের করতে উদাত্ত আহবান জানিয়েছিলাম প্রশাসনের প্রতি। কারণ, এরা যতদিন নিখোঁজ থাকতো, আমাদের দলই ক্ষতিগ্রস্ত হতো, এমনেস্টিয়াসহ বহির্বিশ্বে আওয়ামী লীগ ও সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হতো।

 

আরও পড়ুন >>>

ত্ব-হার বন্ধু সিয়ামের চাকরি যায়নি, ব্যাখ্যা দিল কোম্পানি

আবূ ত্ব-হার দ্বিতীয় বিয়ে গোপনে, নিখোঁজ হওয়ার আগে জানত না কেউ!

আবু ত্ব-হা ৭ দিন কি কি করেছেন? পুরো ঘটনার বর্ণনা দিলেন সেই বন্ধুর মা

 

এমনিতেই ‘যা কিছু হারায়, গিন্নী বলেন, কেষ্টা বেটাও চোর’ মানে দিনশেষে সব দোষ সরকারের! তাই, আদনান ইস্যুতে নানা মহল থেকে অপপ্রচার-গুজবের ডালপালা মেলতে থাকায়, তাদের খুঁজে বের করা জরুরী ছিলো।

 

দেশরত্ন শেখ হাসিনার আদর্শিক কর্মী হিসেবে অন্তঃপ্রাণ বিশ্বাস করি, আমার নেত্রী কখনোই গুম-খুনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হবার পর আওয়ামী লীগ সরকারকেই দোষারোপ করা হয়েছিলো, কিন্তু সত্য কখনো গোপন থাকেনা। বিএনপির একজন সিনিয়র নেতার সৌজন্যে দেশবাসী জেনে গেছে, ইলিয়াস আলীকে বিএনপির একাংশই গুম করেছে।

 

তদ্রুপ আবু ত্ব-হার বিষয়েও প্রমাণিত হলো, তিনি নিজেই তার অন্য স্ত্রীর কাছে আত্মগোপনে ছিলেন। ত্ব-হা গুম হয়নি, এ খবরে যেমন অপ্রচার-গুজব বন্ধ হলো, তেমনি আমরাও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছি, সরকার দায়মুক্ত হয়েছে হয়েছে বলে।

 

অতি পরিতাপের বিষয়, ত্ব-হার সন্ধান চেয়ে স্ট্যাটাস দেয়াতে কিছু অতি সেকুলার লীগার এমনভাবে সমালোচনা শুরু করলেন, যেন আমার আদর্শ নিয়েই টান পরে গেছে! আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে কতটা ধারণ করি, আমার নেত্রীকে, আওয়ামী লীগকে কতটা ভালোবাসি, সেটা কথায় নয়, কর্মে ও আচরণে বহুবার প্রমাণ করেছি।

 

আমি গোলাম রাব্বানী, মিথ্যা অপবাদ আর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েও প্রাণপ্রিয় নেত্রীর মনে কষ্ট দিয়ে পদে থাকতে চাইনি বলেই ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করেছি।

 

বুকভরা কষ্ট-অভিমান চেপে রেখে এই দুর্যোগকালীন সময়ে দেশজুড়ে ‘দেশরত্ন শেখ হাসিনার ভালোবাসার উপহার’ নিয়ে সাধ্যের পুরোটা দিয়েই অসহায় মানুষের পাশে থেকেছি।

 

আমরা ঘরে বসে থেকে স্রেফ কী-বোর্ডে শেখ হাসিনার শুভাকাঙ্ক্ষী না। যে রাজপথ থেকে তিলে তিলে উঠে এসেছি, শেখ হাসিনার কর্মী পরিচয়েই সে রাজপথে আছি, তাঁর পক্ষ থেকে বাংলার দুঃখী-মেহনতী মানুষের পাশে আছি, আর শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত থাকবো ইনশাআল্লাহ।

 

যেখানে থাকি, যেভাবেই থাকি কখনও চাইবো না, কোন ঠুনকো ইস্যুতে দেশরত্ন শেখ হাসিনার সরকার বিব্রত হোক, বিশ্ব দরবারে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হোক।

 

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় দেশরত্ন শেখ হাসিনা।”

 

রাব্বানীর আগের স্ট্যাটাস পড়ুন-

একটা সভ্য রাষ্ট্রে এটা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না: গোলাম রাব্বানী

 

আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান, গতানুগতিক চটকদার বাণিজ্যিক ওয়াজের ভীড়ে স্রোতের বিপরীত এই তরুণ বক্তার সাবলীল ও প্রাঞ্জল উপস্থাপনা, কোরান-হাদিসের আলোকে তথ্যবহুল ও বিশ্লেষণধর্মী বক্তব্য সত্যি নজরকাড়ার মতো। আমি ইউটিউব ও ফেসবুকে তার বেশ কয়েকটি আলোচনা শুনেছি, বেশ ভালো লেগেছে।

 

তার কোন বক্তব্য যদি রাষ্ট্রবিরোধী হয়, যদি কোন বক্তব্য জঙ্গিবাদকে উৎসাহিত করে বা কারো চেতনায় আঘাত করে, তাহলে মামলা হোক, তাকে গ্রেফতার করে বাংলা ভাই বা আব্দুর রহমানের মতো আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ বিচার হোক, কোন আপত্তি নেই।

 

কিন্তু আদনানসহ চারজন জলজ্যান্ত মানুষ উধাও হয়ে যাবে, ৬ দিনেও হদিস মিলবে না, তাদের মা-বোন, স্ত্রী থানায় থানায় অসহায় ছুটে বেড়াবে, একটা সভ্য রাষ্ট্রে এটা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় নাহ। তারা কোথায় আছে, তাদের ভাগ্যে কি ঘটেছে সেটা প্রশাসনকেই খুঁজে বের করতে হবে।

 

আর প্রিয় সাংবাদিক ভাই-বোনেরা, রোজিনা আপা আর পরিমনির জন্য যেভাবে জাতির দর্পণ হিসেবে এক হয়েছিলেন, আবু ত্ব-হা আদনান ও তার তিন সঙ্গীর এর জন্যও লিখুন, বলুন।

 

একজন তরুণ আলেম নিখোঁজ হবার বিষয়ে লেখাতে যারা নেতিবাচক মন্তব্য করছেন, তাদের মাঝে কেউ এভাবে নিখোঁজ হলেও সন্ধান চেয়ে লিখবো, বলবো। বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর বিষয়েও লিখেছিলাম।

 

এটা ভুলে গেলে চলবে নাহ, দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রযন্ত্রের অবশ্য পালনীয় কর্তব্য আর এই নিরাপত্তাটুকু পাওয়া জনগণের সাংবিধানিক অধিকার!

 

গোলাম রাব্বানী,

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক জিএস।

 

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

 

আরও পড়ুন-

 

ছাত্রলীগ নেতা সিদ্দিকী নাজমুলের ‘খোঁজ নিতে বললেন’ প্রধানমন্ত্রী

 

নজর২৪ ডেস্ক- হৃদযন্ত্রে জটিলতা ধরা পড়ার খবর ফেসবুকে জানিয়ে সবার কাছে ‘ক্ষমা চেয়েছেন’ লন্ডন প্রবাসী ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম। গতকাল তিনি ফেসবুকে এই পোস্ট দেন।

 

 

শনিবার (১৯ জুন) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ফেসবুকে লেখেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে সিদ্দিকী নাজমুল আলমের স্বাস্থ্য বিষয়ে অবহিত করেছি। তিনি তার দ্রুত আরোগ্য লাভ হবে বলে প্রত্যাশা করেছেন এবং তাকে চিন্তা করতে মানা করেছেন। তার খোঁজ রাখার জন্যও বলেছেন।’

 

গতকাল ফেসবুকে সিদ্দিকী নাজমুল আলম লেখেন, এনজিওগ্রামে তার হার্টে অনেকগুলো ‘ব্লক’ ধরা পড়েছে। দুয়েক দিনের মধ্যে তার ‘ওপেন হার্ট সার্জারি’ করা হবে। বর্তমানে লন্ডনের বার্থ হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন।

 

হাসপাতালে রোগীর পোশাকে দুটি ছবি যুক্ত করে ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, “সবাই আমাকে আল্লাহর ওয়াস্তে ক্ষমা করে দিয়েন। বাঁচবো কি না জানি না, তবে এই চরম মুহূর্তে কিছু সত্য কথা বলে যাই।

 

“আমি রাজনীতিটা একমাত্র দেশরত্ন শেখ হাসিনারে মেনেই করতাম এবং করি। কোনোদিন তার বাইরে যাইনি। সাবেক অনেক বড় ভাইদের কথায় আমি কখনও চলি নাই, বরং পেছনের সারির অনেককে নেতা বানাইছি নিজের ইচ্ছায়। আর প্রেম করেছিলাম, কিন্তু মানিয়ে নিতে পারিনি। তাই বিয়ে হয়নি।”

 

২০১১ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন সিদ্দিকী নাজমুল আলম। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এই ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের দায়িত্ব পালনকালে তিনি ‘অবৈধভাবে বিপুল সম্পদের’ মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

 

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালেই তিনি বেশ কয়েকটি দেশে নিয়মিত ভ্রমণ করতেন। ওইসব দেশে তিনি বিভিন্ন ব্যবসায় জড়িয়ে যান বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

 

এছাড়া প্রেম-বিয়ে, বিভিন্ন সময় বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের হুমকি, আক্রমণাত্মক বক্তব্য ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি ছিলেন ছাত্ররাজনীতির আলোচিত চরিত্র।

 

ফেসবুকে সিদ্দিকী নাজমুল আলম লেখেন, “শেষ কথা হলো বাংলাদেশে কোন ব্যাংকে আমার নামে এক পয়সাও লোন নাই এবং লোনের কোনো টাকা বিদেশেও নিয়ে আসিনি। তদবির ঠিকাদারি দালালি পদ বাণিজ্য কখনও করিনি।”

 

লন্ডনে গায়ে খাঁটি জীবনে যে কাজ করিনি, তা করে জীবনযুদ্ধে লিপ্ত ছিলাম। কিন্তু আমার কপাল ভালো না। কিছুক্ষণ আগেই আমার এনজিওগ্রাম সম্পন্ন হয়েছে অনেকগুলো ব্লক ধরা পড়েছে। ওপেন হার্ট সার্জারি করতে হবে। হয়তোবা আজকালের মধ্যেই করবে।

 

সরকারি হাসপাতালেই করবে। কারণ এই দেশে চিকিৎসা ফ্রি তাই আর কেউ কষ্ট কইরা ভূল তথ্য দিয়েন না যে, কোটি টাকার অপারেশন। যদি মরে যাই একটাই কষ্ট থাকবে নিজের দলের মানুষের প্রতিহিংসার স্বীকার হয়ে মিডিয়া ট্রায়াল হয়েছে বারবার আমার নামে। আর আফছোছ হয়তোবা বড় কোনো ভাই আমার নামে অনেক মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমার নেত্রীর কান ভারি করে রেখেছে। সেই ভূলগুলো হয়তো ভাঙিয়ে যেতে পারলাম না।

 

আপা, আপনিই আমার মমতাময়ী জননী স্নেহময়ী ভগিনী। আপনাকে অনেক ভালোবাসি ক্ষমা করে দিয়েন আমাকে। সবাই ভালো থাকবেন। আপনাদের আর যন্ত্রণা দিবো না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *