স্কুলজীবনেই টাঙ্গাইলের অমির সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় পরীমনির!

নজর২৪ ডেস্ক- চিত্রনায়িকা পরীমনি ও তুহিন সিদ্দিকী অমি স্কুলজীবনের বন্ধু বলে দাবি করেছেন অমির বাবা তোফাজ্জল হোসেন তোফা। তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অমি ও পরীমনি ছিল স্কুলজীবনের বন্ধু। তার সঙ্গে কোনো পারিবারিক বা আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই।

 

অমির বাবা জানান, অমির জন্ম ঢাকার আশকোনায়। সেখানেই বড় হয়েছেন। স্কুলজীবনে পরীমনির সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল। এর পর আর যোগাযোগ ছিল না। কিন্তু হঠাৎ করে তিনি জানতে পারেন পরীমনির করা মামলায় অমিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

 

অমি কয়েকটি দেশের নাগরিক বলেও জানান বাবা তোফাজ্জল হোসেন। তিনি বলেন, অমি সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার নাগরিক। এ ছাড়া অমির রয়েছে ৭/৮টি দেশের পাসপোর্ট এবং সবই ভিসা লাগানো।

 

‘যদি আগে জানতে পারতাম পরীমনির মামলায় অমিকে গ্রেফতার করা হবে, তা হলে আগেই তাকে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিতাম।’

 

তিনি আরও বলেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বেঁচে থাকলে কোনো চিন্তাই করতাম না। তিনি মারা যাওয়ার পর আমি অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছি।

 

জানা গেছে, অমির বাবা এলাকায় তোফা হাজী বা আদম ব্যবসায়ী তোফা নামেই বেশি পরিচিত। টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার গুল্যা গ্রামে তার গ্রামের বাড়ি।

 

১৯৮৫ সালে সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমান তোফাজ্জল হোসেন। দেশে ফিরে আদম ব্যবসা শুরু করেন পেঙ্গুইন ট্রেনিং সেন্টারের মালিক মিজানের সঙ্গে। পরে এককভাবে তিনি আদম ব্যবসা শুরু করেন।

 

ঢাকার আশকোনা এবং দক্ষিণখানে গড়ে তোলেন দুটি ট্রেনিং সেন্টার। সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, কাতার, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে লোক পাঠাতে শুরু করেন। ৭/৮ বছর আগে হজ করার পর ব্যবসার দায়িত্ব ছেলে তুহিন সিদ্দিকী অমির হাতে ছেড়ে দেন।

 

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন তোফাজ্জল হোসেন। এর পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।

 

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ধর্ষণচেষ্টার মামলায় আলোচনায় আসা অমির গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার গুল্ল্যাহ গ্রামে রয়েছে ভিন্ন পরিচয়। সেখানে তার নামে রয়েছে হাসপাতাল। গ্রামের মানুষের জন্য মসজিদ-মাদরাসাও নির্মাণ করেছেন বলে জানা যাচ্ছে।

 

গুল্ল্যাহ গ্রামে রয়েছে অমিদের বিলাসবহুল একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি। তবে রাজপ্রাসাদের মতো বাড়িটিতে কেউ থাকেন না। মাঝেমধ্যে অমি এবং তার বাবা সেখানে গিয়ে দেখাশোনা করে আবার চলে যান।

 

জানা যায়, অমি বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। বাবা-ছেলে দুজনই আদম ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বাবা-ছেলে গ্রামের মানুষকে আর্থিক সহায়তা, ঘরবাড়ি করে দেওয়াসহ হাসপাতাল, মসজিদ ও মাদরাসাও নির্মাণ করেছেন।

 

সরেজমিনে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার গুল্ল্যাহ গ্রামে দেখা গেছে, বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়িটির বাউন্ডারি দেওয়াল বিভিন্ন নকশায় সাজানো হয়েছে। পাশের সাদা রঙের বাড়িটি তার চাচার, তিনি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। এ ছাড়া ওই গ্রামেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশেই নির্মাণ করা হয়েছে অমির নামে একটি হাসপাতাল। হাসপাতালের পেছনেই মসজিদ ও মাদরাসা নির্মাণ করা হয়েছে।

 

আব্দুর রউফ নামে আরেকজন বলেন, তারা আগেই থেকে ধনী মানুষ। এলাকার দরিদ্র মানুষদের আর্থিক সহায়তা করে আসছেন। এলাকায় তাদের নামে কোনো অভিযোগ বা অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য নেই।

 

গুল্ল্যাহ গ্রামের বাসিন্দা সেলিম খান বলেন, যিনি গ্রামে মসজিদ-মাদরাসা নির্মাণ করতে পারেন তিনি লোক হিসেবে খারাপ হতে পারেন না। অমি ও তার বাবা ভাল মানুষ হিসেবে এলাকায় পরিচিত। কেউ হয়তো শত্রুতা করে ফাঁসিয়েছে অমিকে।

 

সুরুজ মিয়া নামে আরেক এলাকাবাসী বলেন, তাদের বাড়িটি হাজী বাড়ি নামে পরিচিত। এই গ্রাম ছাড়াও অন্যান্য গ্রামের মানুষজনকেও আর্থিক সহযোগিতা ছাড়াও অনেক মসজিদ মাদরাসায় দান করেছেন। অনেক অসহায় পরিবারের মেয়ের বিয়েতেও দান খয়রাত করেছেন। তবে অমি ছোট থেকেই ঢাকায় থাকত।

 

স্থানীয়রা জানান, অমির জন্ম ঢাকাতেই। ফলে সেখানেই সে মানুষ হয়েছে। এলাকায় বছরে একবার-দুইবার যেতেন। গ্রামের বিভিন্ন অনুষ্ঠানসহ নানা কাজে তিনি আর্থিক সহায়তা করতেন। গ্রামের মানুষ তাকে ভালো মানুষ হিসেবেই চেনেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *