আবু ত্ব-হার কাছে যাবেন না স্ত্রী সাবিকুন্নাহার!

নজর২৪ ডেস্ক- আলোচিত ইসলামি বক্তা ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনানের খোঁজ নেই। প্রথমে বিষয়টি জানান দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিকুন্নাহারই। থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি করার চেষ্টা, সেটি নেয়া হচ্ছে না বলে গণমাধ্যমে অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন করে ‘ত্ব-হাকে আমার কাছে ফিরিয়ে দেন, না হলে তার কাছে আমাকে নিয়ে যান’ বলে আবেগপ্রবণ বক্তব্য দিলেও স্বামীর খোঁজ পাওয়ার পর তিনি এ প্রসঙ্গে এখন কিছু বলতে রাজি হচ্ছেন না। তার কাছেও এখনই যেতে চাইছেন না।

 

শুক্রবার দুপুরে ত্ব-হা ফিরে আসার পর কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় সাবিকুন্নাহারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে গণমাধ্যম। তবে এই চেষ্টাটা সহজ ছিল না।

 

দুপুর থেকে তার ফোনে কখনও কল যাচ্ছিল না, কখনও পাওয়া যায় ব্যস্ত। পরে মিরপুর-১১ নম্বরের ‘এ’ ব্লকের একটি বাসায় যাওয়া হয়। এই বাসার ঠিকানা ব্যবহার করেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গত ১৪ জুন ত্ব-হাকে উদ্ধারের আবেদন করে চিঠি দেয়া হয়।

 

তবে সেই বাসায় থাকেন না সাবিকুন্নাহার। সেটি নারীদের একটি কওমি মাদ্রাসা। মাদ্রাসাটি পরিচালনা করেন সাবিকুন্নাহার এবং তার বোন। এই মাদ্রাসায় কখনও আসেননি ত্ব-হা। শুক্রবার থাকায় মাদ্রাসাটি বন্ধ পাওয়া যায়।

 

দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও মাদ্রাসার কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে সেই বাড়ির বাসিন্দা আল-আমিন নামে একজনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বাড়ির মালিকের ভাই বলে পরিচয় দেন।

 

তিনি জানান, নিচতলার পাঁচটি কক্ষ নিয়ে এই মাদ্রাসা। তিন মাস আগে বাসাটি ভাড়া নেন সাবিকুন্নাহার।

 

তবে সাবিকুন্নাহারের বাসার ঠিকানা কোনটি, সেটি জানাতে পারেননি আল আমিন। বলেন, ‘কয়েক মাস আগে মাদ্রাসার পাশের গলির একটি বাসায় থাকতেন তারা। কিন্তু এখন অন্য জায়গায় থাকেন। কোথায় সেটি জানি না।’

 

সেখান থেকে চলে এসে সন্ধ্যায় অবশেষে ফোনে কথা হয় ত্ব-হার স্ত্রীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি আসলে আপনাদের কাছে কিছু বলতে পারব না।‘

 

ফোনে কথা বলতে না চাইলে বাসায় আসব কি না- এমন প্রশ্নে সাবিকুন্নাহার বলেন, ‘আমার কথা বলা নিষেধ আছে। আপনারা বোঝার চেষ্টা করেন।’

 

তবে কার নিষেধ, সেটি বলেননি তিনি।

 

ত্ব-হার সঙ্গে দেখা করতে রংপুরে যাবেন কি না- এমন প্রশ্নে তার স্ত্রী বলেন, ‘আমি রংপুর কেন যাব এখন? দেখি কী হয়। বলতে তো পারছি না, ওরা যদি গ্রেপ্তার দেখায় কোনো মামলায়।’

 

উদ্ধার হওয়ার পর ত্ব-হার সঙ্গে কথা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কিছু বলতে পারছি না।’

 

আপনি বলছিলেন, ত্ব-হা আপনার কাছে আসছে। কিন্তু তিনি তো গেলেন প্রথম স্ত্রীর কাছে। এই মন্তব্যের জবাবে সাবিকুন্নাহার কিছু না বলে চুপ থাকেন।

 

নিখোঁজের ৮ দিনের মাথায় আবু ত্ব-হা শুক্রববার (১৭ জুন) দুপুর ১২টার পরে তার প্রথমপক্ষের শ্বশুরবাড়িতে ফিরে আসেন। খবর পেয়ে রংপুরের মাস্টারপাড়া এলাকার শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে বিকেল ৩টার দিকে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

 

বিকেলে ৫টার দিকে রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ের ব্রিফিংয়ে মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ হোসেন জানান, ইসলামি বক্তা আবু ত্ব-হা ও তার সঙ্গী তিনজন ব্যক্তিগত কারণে আত্মগোপনে ছিলেন গাইবান্ধার ত্রিমোহনী এলাকায় এক বন্ধুর বাসায়।

 

১০ জুন মধ্যরাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন আবু ত্ব-হা আদনান। ছেলের নিখোঁজের সংবাদ পেয়ে তার মা রংপুরের কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নিখোঁজের আট দিন পর আজ ফিরে আসেন তারা।

 

সপরিবার রংপুর শহরে থাকেন আবু ত্ব-হা আদনান। এখানে তার বাবার বাড়ি এবং শ্বশুরবাড়ি দুটোই। তার প্রথম স্ত্রী হাবিবা নূর, মেয়ে (৩ বছর) ও দেড় বছরের ছেলেকে নিয়ে বসবাস করতেন তিনি।

 

ঢাকায় থাকেন তার সম্প্রতি বিয়ে করা দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিকুন্নাহার। তিনি মিরপুরের আল ইদফান ইসলামী গার্লস মাদ্রাসার শিক্ষক। কয়েকদিন আগে সাবিকুন্নাহার সংবাদ সম্মেলনে তার নিখোঁজ স্বামীর সন্ধান দেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অনুরোধ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *