ঢাকা    ২২শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

কথায় কথায় হাততালিতে ক্ষুব্ধ মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত: ১১:২৩ অপরাহ্ণ, জুন ১০, ২০২১

কথায় কথায় হাততালিতে ক্ষুব্ধ মির্জা ফখরুল

নজর২৪ ডেস্ক- বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪০ তম মৃত্যু বার্ষিকীর আলোচনা সভা। মঞ্চ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, হাততালি দেবেন না। কিন্তু নেতা-কর্মীরা কথায় কথায় হাততালি আর স্লোগান দেন।

 

বিষয়টি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ক্ষুব্ধ করে। তিনি বলেন, ‘এটা হাততালির অনুষ্ঠান নয়। বারবার বলা হয়েছে মঞ্চ থেকে যে হাততালি দেবেন না। আপনারা দিয়েই যাচ্ছেন।’

 

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

 

ক্ষুব্ধ ফখরুল বলেন, ‘আমি তখন থেকে ওখানে বসে বসে লক্ষ করছি। আপনাদের প্রিয় নেতারা যারাই বক্তব্য দিচ্ছেন, আপনারা শুধু স্লোগান দিচ্ছেন, স্লোগান দিচ্ছেন, হাততালি দিচ্ছেন। যেখানে হাততালি দেয়ার কথা না আজকে। বারবার বলা হয়েছে মঞ্চ থেকে যে হাততালি দেবেন না। এটা হাততালির অনুষ্ঠান নয়। আপনারা দিয়েই যাচ্ছেন।’

 

তিনি বলেন, ‘আলোচনা সভা কাকে বলে সেটা বুঝতে হবে, কনফারেন্স কাকে বলে সেটা বুঝতে হবে, সংলাপ কাকে বলে সেটা বুঝতে হবে, তা যদি না বুঝি তাহলে রাজনৈতিক দলের সদস্য হলাম কেন?’

 

স্লোগান রাজপথে দেয়ার বিষয়, তা নেতা-কর্মীদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে দলের মহাসচিব বলেন, ‘বক্তার যে আসল কথা, তা কেউ শোনেন না। এখানে প্রচণ্ড গরম। সবাই অস্থির হয়ে যাচ্ছে। গরমে সিদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। তারপরে আপনাদের স্লোগান। স্লোগান অত্যন্ত ভালো জিনিস ভাই। চলেন না রাজপথে যাই। গিয়ে স্লোগান দিই।’

 

বিএনপির বর্ষীয়ান এই নেতা বলেন, ‘আমার তো কম অভিজ্ঞতা হয়নি। বয়স ৭৩ পার হয়ে গেছে। এই যে ইশরাকের আব্বা সাদেক হোসেন খোকা সাহেব যখন ঢাকা মহানগরের প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখন থেকে তো আমি আছি। দেখছি তো। দয়া করে ওই জিনিসগুলো মনে রাখবেন। ‘আজকে এখানে বসেছি আমরা।

 

‘মিলিত হয়েছি আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সম্পর্কে জানার জন্য। ইচ্ছা ছিল আজকে আপনাদের তার সম্পর্কে বলব। কিন্তু এখন আর বলার কোনো অবকাশ নেই। সেই মানসিকতাও নাই। আর আপনারা সেটা শুনতেও আসেননি। যাই হোক এটা আপনারা মনে রাখলে খুশি হব। সবাই খুশি হবে উপকৃত হবে।’

 

তিনি বলেন, ‘দেশবাসী জানতে পারবে যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কে ছিল? এই যে সাত দিন, আট দিন, নয় দিন ১০ দিন ধরে আমরা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদত বার্ষিকী পালন করছি, কেন করছি? এই জন্য করছি, তার সম্পর্কে দেশের মানুষকে জানাতে চাই। এজন্য করছি যে আওয়ামী লীগ আজকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার করছে।’

 

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘আপনারা নেতাদের নামে স্লোগান দিচ্ছেন। আজকে দেশে যাচ্ছি বেগম খালেদা জিয়া কোথায়? আপনারা কেউ তার মুক্তি দাবি করে স্লোগান দেননি।’

 

নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে আন্দোলনের জন্য দলকে ‘সর্বাত্মক’ প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এখন আর সময় নাই। আগামী দিনের জন্য নিজেকে তৈরি করে ফেলেন। শক্ত হয়ে দাঁড়াই আমরা নিজেদের পায়ে, দাঁড়িয়ে আমরা জনগণকে আমাদের সঙ্গে নিয়ে আসি। জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করি।

 

মির্জা ফখরুল বলেন, দাবি একটাই- চলে যাও, চলে যাও, রেহাই দাও বাংলাদেশকে। আমাদের পরিষ্কার কথা- অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে, নিরপেক্ষ অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন দিন। তা না হলে এই বাংলাদেশের মানুষ কীভাবে তাদের অধিকার আদায় করতে হয় তারা তা জানে।

 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ওদের (সরকারদলীয়) একজন এমপি কিছুদিন আগে পার্লামেন্টে বলেছেন, বড় চোরদের চুরি দেখে ছোট চোররা এখন লজ্জা পাচ্ছে। বড় চোর হচ্ছে ওদের মন্ত্রী, বড় বড় নেতারা। করোনা মানুষের জীবন নিয়ে যাচ্ছে। মানুষের জীবনের প্রশ্ন, বাঁচার প্রশ্ন, মরার প্রশ্ন; সেখানেও তারা চুরি করছে। টেস্টে চুরি, মাস্কে চুরি, পিপিইতে চুরি, ডাক্তার-নার্সদের টাকা দেয়ার বেলায় চুরি, আইসিইউ বেডে চুরি- শেষ পর্যন্ত হাসপাতাল চুরি, একটা হাসপাতাল নাই, উধাও হয়ে গেছে।’

 

তিনি যোগ করেন, ‘চিন্তা করতে পারেন। আবার নতুন করে একটা হাসপাতাল তৈরি করবে, আবার ওখানে চুরি করবে, আবার কমিশন নেবে। আর ওই টাকা পাঠাবে কানাডা, মালয়েশিয়া, ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে। আমার কথা নয়, আপনারাই এখন বলতে শুরু করেছেন পার্লামেন্টে, বিভিন্ন জায়গায়.. এই যে অর্থপাচার হচ্ছে -এটা ভয়াবহ। আমাদের অর্থনীতিবিদরা বলছেন যে, ছয় লাখ কোটি টাকা গত কয়েক বছরে দেশ থেকে পাচার হয়ে গেছে; এটাই আওয়ামী লীগ।