ঢাকা    ২২শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

উত্তরাঞ্চলে চালের বাজার অস্থির, কেজিতে দাম বেড়েছে ৫ টাকা

প্রকাশিত: ৯:১৯ অপরাহ্ণ, জুন ১০, ২০২১

উত্তরাঞ্চলে চালের বাজার অস্থির, কেজিতে দাম বেড়েছে ৫ টাকা

সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর ব্যুরো: এবার বোরো মৌসুমে রংপুর সহ বিভাগের ৮ জেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবার পরেও গত দুদিন ধরে আকস্মিক ভাবে চালের দাম বেড়ে গেছে। পাইকারী বাজারে কেজি প্রতি চালের প্রকার ভেদে ২ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে অন্যদিকে খুচরা বাজারে বেড়েছে ৪ থেকে ৫ টাকা কেজি দরে।

 

এদিকে আকস্মিক ভাবে চালের দাম বৃদ্ধির কারন হিসেবে দেশের ১০ সিন্ডিকেট চালের আড়তদার ব্যবসায়ীকে দায়ি করেছে পাইকারী চাল ব্যবসায়ীরা। তারা হাজার হাজার মেট্রিক টন চাল গুদাম জাত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে চালের বাজার অস্থির করে তুলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

বৃহম্পতিবার বিকেলে সরজমিনে দেশের অন্যতম বৃহৎ চালের মোকাম রংপুর নগরীর মাহিগঞ্জ এলাকায় গিয়ে পাইকারী চাল ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে মিনিকেট চাল প্রতি কেজিতে ৪ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫৪ টাকা কেজিতে। অন্যদিকে হাইব্রিড মোটা চাল ৩৬ টাকা কেজি থেবে বেড়ে ৩৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

 

গুটি স্বর্না চাল কেজিতে ৩ টাকা বেড়ে ৪৩ টাকা বিআর ২৮ ৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ৪৮ টাকা এবং বিআর ২৯ চাল ৪১ টাকা থেকে বেড়ে ৪৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাহিগজ্ঞ আড়তদার চাল ব্যবসায়ী সমিতির সহ সম্পাদক রিপন জানান কোন কারন ছাড়াই চালের দাম হঠাৎ করে দুদিন ধরে কেজি প্রতি ২ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

 

তিনি বলেন চালের কোন সংকট নেই। এবার রংপুরেই ৬ লাখ টনেরও বেশি চাল উৎপাদন হয়েছে। রংপুর বিভাগে ১৮ লাখ টনের বেশি চাল উৎপাুিদত হয়েছে। যা রংপুর বিভাগের চাহিদা পুরন করার পরেও কমপক্ষে ৮ লাখ মেট্রিক টন চাল উদ্বৃত্ত থাকার কথা। সেখানে চালের দাম বাড়ার কোন কারন নাই বলে জানান তিনি। এক প্রশ্নের উত্তরে ওই চাল ব্যবসাযী জানান খাদ্য বিভাগ মোটা চাল কিনছে ৪০ টাকা কেজি দরে। সেই চালের দাম ৩৬ টাকা ছিলো সেটা হঠাৎ করে ৩৮ টাকা হবার কোন কারন নেই।

 

অন্যদিকে পাইকারী চাল ব্যবসাযী সমিতির সহ সভাপতি তুহিন চৌধুরী বলেছেন বড় বড় অবস্থাপন্ন কৃষক এবার চাল বিক্রি করছেনা তারা অধিক লাভের আশায় ষ্টক করে রেখেছে। বরং তারা ধান কিনছে ক্ষুদ্র ও প্রান্তি চাষিদের কাছে। যেহেতু মোটা চাল সরকার ৪০ টাকা দরে কিনছে সে কারনে তারা আরো বেশী লাভের আশায় চাল বিক্রি করছেনা।

 

অন্যদিকে উত্তরাঞ্চল সহ দেশের ১০ চাল ব্যবসায়ী ব্যাংক থেকে কোটি কোটি ঋন নিয়ে তারা সিন্ডিকেট করে হাজার হাজার টন চাল কিনে গুদামজাত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজারে চালের দাম বাড়িয়েছে। বাস্তবে চালের কোন সংকট নেই এমনকি তাদের পাইকারী মোকামে চাল কেনার খদ্দের নেই।

 

প্রতিদিন যেখানে ৫/৭ ট্রাক চাল বিক্রি হতো এখন ১ ট্রাক চাল বিক্রি করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন চাহিদা থাকলে দাম বাড়ে সেখানে চাহিদা নেই সেখানে চালের দাম বৃদ্ধি পাবার কোন কারন নেই। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে চালের ব্যবসা করে ভরা মৌসুমে এভাবে চালের দাম কখনও বাড়েনি বলে জানান তিনি।

 

এদিকে মাহিগঞ্জ চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন জানান, সরকারের কাছে ঋন নিয়ে দেশের শীর্ষ ১০ চাল ব্যবসায়ী চাল কিনে মজুদের পাহাড় গড়ে তুলেছে তাদের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযান শুরু করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান তিনি।

 

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান এবার দেশে যে পরিমান চাল উৎপাদন হয়েওছে তা দেশের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থাকার কথা সেখানে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বিদেশ থেকে চাল আমদানি করে কোটি কোটি মুনাফা লোভী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।