ঢাকা    ২২শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের ‘কঠোর জবাব’ দিলেন মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত: ৭:০৭ অপরাহ্ণ, জুন ১০, ২০২১

ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের ‘কঠোর জবাব’ দিলেন মির্জা ফখরুল

নজর২৪, ঢাকা- জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্র ছিল বহুদলীয় ‘তামাশা’, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্যের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গণতন্ত্র যদি তামাশা হয়, তাহলে আপনাদের জন্মই তো সেই তামাশা থেকে।’

 

বহুদলীয় গণতন্ত্রকে কেন ‘তামাশা’ বলেন? আপনারা তো বাকশাল করে নিজেদের নাই ঘোষণা দিয়েছিলেন।

 

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

 

নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে আন্দোলনের জন্য দলকে ‘সর্বাত্মক’ প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এখন আর সময় নাই। আগামী দিনের জন্য নিজেকে তৈরি করে ফেলেন। শক্ত হয়ে দাঁড়াই আমরা নিজেদের পায়ে, দাঁড়িয়ে আমরা জনগণকে আমাদের সঙ্গে নিয়ে আসি। জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করি।

 

মির্জা ফখরুল বলেন, দাবি একটাই- চলে যাও, চলে যাও, রেহাই দাও বাংলাদেশকে। আমাদের পরিষ্কার কথা- অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে, নিরপেক্ষ অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন দিন। তা না হলে এই বাংলাদেশের মানুষ কীভাবে তাদের অধিকার আদায় করতে হয় তারা তা জানে।

 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ওদের (সরকারদলীয়) একজন এমপি কিছুদিন আগে পার্লামেন্টে বলেছেন, বড় চোরদের চুরি দেখে ছোট চোররা এখন লজ্জা পাচ্ছে। বড় চোর হচ্ছে ওদের মন্ত্রী, বড় বড় নেতারা। করোনা মানুষের জীবন নিয়ে যাচ্ছে। মানুষের জীবনের প্রশ্ন, বাঁচার প্রশ্ন, মরার প্রশ্ন; সেখানেও তারা চুরি করছে। টেস্টে চুরি, মাস্কে চুরি, পিপিইতে চুরি, ডাক্তার-নার্সদের টাকা দেয়ার বেলায় চুরি, আইসিইউ বেডে চুরি- শেষ পর্যন্ত হাসপাতাল চুরি, একটা হাসপাতাল নাই, উধাও হয়ে গেছে।’

 

তিনি যোগ করেন, ‘চিন্তা করতে পারেন। আবার নতুন করে একটা হাসপাতাল তৈরি করবে, আবার ওখানে চুরি করবে, আবার কমিশন নেবে। আর ওই টাকা পাঠাবে কানাডা, মালয়েশিয়া, ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে। আমার কথা নয়, আপনারাই এখন বলতে শুরু করেছেন পার্লামেন্টে, বিভিন্ন জায়গায়.. এই যে অর্থপাচার হচ্ছে -এটা ভয়াবহ। আমাদের অর্থনীতিবিদরা বলছেন যে, ছয় লাখ কোটি টাকা গত কয়েক বছরে দেশ থেকে পাচার হয়ে গেছে; এটাই আওয়ামী লীগ।

 

সরকারি দলের নেতাকর্মীদের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘চারিদিকে, আপনাদের আশপাশে তাকিয়ে দেখবেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী… বড় নেতা, ছোট নেতা, পাতি নেতা – সব আছে না? তাদের চলাফেরা, চাল-চলন দেখেছেন আপনি? নিশ্চয় দেখেন। রাতারাতি সব আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছে। এদের হাতে যদি দেশ বেশিদিন থাকে, এই দেশের অস্তিত্ব থাকবে না, এ দেশ টিকবে না। ছোট বেলা আমরা পড়তাম, গানও শুনেছি- ছেলে ঘুমালো, পাড়া জুড়ালো বর্গী এলো দেশে। এই সেই বর্গী এরা।