সাইফুল ইসলাম, রংপুর ব্যুরো- রংপুরের তারাগঞ্জে স্বামীর অফিসে হাফিজা খাতুন নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত হাফিজা খাতুন বুড়িরহাট শাখা ব্র্যাক অফিসের অফিস সহায়ক নুর আলমের স্ত্রী।
বুধবার (০৯ জুন) বিকেলে উপজেলার সয়ার ইউনিয়নে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের বুড়িরহাট শাখা অফিসের একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১১ বছর আগে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের হাফিজা খাতুনের সঙ্গে একই জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা নূর আলমের বিয়ে হয়। চাকরির কারণে নুর আলম ও তার স্ত্রী হাফিজা খাতুন গত ছয় মাস ধরে তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের বস পাড়া গ্রামের জনৈক জবুর আলীর বাসায় ভাড়া থাকতেন।
পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। গত শুক্রবার (৪ জুন) দুজনের মধ্যে ঝগড়া হলে হাফিজা খাতুন অভিমান করে বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে গত মঙ্গলবার রাতে হাফিজা বাসায় ফিরে আসেন। তবে সেখানে এসে বাসার কোনো জিনিসপত্র না থাকায় এবং নূর আলমকে না পেয়ে পরদিন সকালে তিনি বুড়িরহাট ব্র্যাক অফিসে যান। সেখানে পৌঁছে অফিসের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন হাফিজা। এর ফাঁকে গেস্ট রুমে ঢুকে কোনো এক সময় গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।
ব্র্যাকের বুড়িরহাট শাখা ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, হাফিজা অফিসে এসে আমার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলেন। তারপর গেস্ট রুমে কখন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তা আমরা কেউ জানি না। পরে গেস্ট রুমের দরজা বন্ধ দেখে পুলিশকে খবর দেয়া হয়।
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহম্মদ বলেন, গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে তারাগঞ্জ থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে।
